Benami Diary: কলাম
Showing posts with label কলাম. Show all posts
Showing posts with label কলাম. Show all posts

Tuesday, July 14, 2020

বাঙালির রক্ষাকর্তা নাকি রাজনৈতিক অভিসন্ধি?

July 14, 2020 0
বাঙালির রক্ষাকর্তা নাকি রাজনৈতিক অভিসন্ধি?

বাংলা আগামীদিনে মহারাষ্ট্র হতে চলেছে। হ্যাঁ রক্তক্ষয়ী মহারাষ্ট্র। এর কারণ দুটো। এক সরকারের বাংলার মানুষকে ছেড়ে অন্যান্য প্রদেশের মানুষকে তোল্লাই দেওয়া। আর দ্বিতীয় কারন প্রধান বিরোধী দলের (সে আপনি মানুন আর নাই মানুন অনারাই এখন প্রধান বিরোধী দল) অত্যধিক গো বলয় নির্ভর রাজনীতি। আর এর ফাঁক গলে বাংলার বাঙালি সেন্টিমেন্টে হাত বুলিয়ে কয়েকটি ভুঁইফোড় স্বঘোষিত বাঙালির দায়িত্ব রক্ষাকারী গোষ্ঠীর আগমন। এবং এর সাথেই একের সাথে আরেক গোষ্ঠীর পাল্লা দিয়ে অবাঙালি হেনস্থা করা। শুধু অবাঙালিই নয় বাঙালি কেউও যদি নিজেদের আত্মসমালোচনা করে  তাকেও এই সামাজিক মাধ্যমে বা তার বাইরে ওর বাড়ির কাছে গিয়ে হেনস্থা করা। এই ধরনের উগ্র রাজনীতি আমরা মহারাষ্ট্রে দেখে অভ্যস্ত। মারাঠা অস্মিতা নিয়ে সেখানে কার্যত অমারাঠি জাতি গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ করা হয়। তা আজ আমাদের বাংলায়। কিন্তু এর কারণটা ঠিক কি? একটু তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপ।

 প্রথমেই আসি কেন্দ্রের সরকারের কথায়। বলে নেই কওয়া নেই হঠাৎ আসানসোল, খড়গপুর, নিউ জলপাইগুড়ির মতো স্টেশনগুলো থেকে বাংলা হটিয়ে একদম হিন্দিতে সব লেখা শুরু হল। এমনিতেই এই তালিকার দুটো শহরে বাঙালিরাই কার্যত সংখ্যালঘু এবং একরকম ইনসিকিওরটিতে ভোগে। তার ওপর এই ধরনের কাজকর্ম আরও বেশি করে তাদের ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও রেল ব্যাংক ইত্যাদি সংস্থায় কাজ করতে আসা বেশিরভাগ বাইরের রাজ্যের কর্মী বাংলা পড়তে পারা তো দূর অস্ত, বলতেই পারেননা ঠিক ঠাক। উল্টে সর্বদাই একরকম আমরা উচ্চশ্রেণীর মার্কা ভাব দেখানো। ফলে মানুষের ক্ষোভ প্রচন্ড বেড়ে যায় এইসব নিয়ে। আমার নিজের গ্রামে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের একাধিক কর্মচারী না ব্যাংক বোঝেন না বলতে পারেন ঠিক ঠাক। আর এই গন্ডগ্রামের অধিকাংশ মানুষের কাছে হিন্দি আর স্প্যানিশ সমতুল্য ভাষা। ফলে পরিষেবার চেয়ে হেনস্থা বেশি হতে হয় সেটা বলাই বাহুল্য। আর যারা জানেন তাদেরও নিজের রাজ্যে বসে একজন বাইরের রাজ্যের মানুষের সাথে তাঁর ভাষায় কথা বলতে হচ্ছে। অথচ আপনি মায় বিহার ঝাড়খন্ড যান, সেখানেও কিন্তু আপনাকে হিন্দিতেই কথা বলতে হয়। এখানে আবার টুরিস্ট স্পটের কথা বলবেন না যেন। ফলে বাঙালির ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হওয়া স্বাভাবিক। আবার রেলের অধিকাংশ বিজ্ঞাপন, বা তথ্য পুস্তিকা সবই হিন্দি না হয় বাংলায়। ফলে বাংলায় বসে বাংলায় পরিষেবা পাইনা আমরা

এবার ধরুন রাজ্যের কথা। রাজ্য সরকার অবাধে বিহারীদের বাংলায় আসতে এবং থাকতে দিচ্ছে। হ্যাঁ এই দেশে যে কেউ যেকোনো জায়গায় গিয়ে থাকতে বা ব্যবসা করতে পারেন। কেউ আপনাকে আটকাতে পারেনা। কিন্তু সেইসব মানুষ যখন আশেপাশের বাঙালির ওপর জুলুমবাজি করবে, তখন সেটা কে সহ্য করবে বলুন? হাওড়া স্টেশনে বা বড়বাজারে কুলিদের জুলুমবাজি, বাসে কন্ডাক্টরের জুলুমবাজি আরও কত বলব? এছাড়াও সঙ্গে বাংলায় বসে বাঙালিকে অপমান তো ফ্রিতে। এগুলো সরকার আটকাতেই পারে। কলকাতায় ফুটপাতে ব্যবসা করা প্রতি পাঁচজনে তিনজন বাংলার বাইরের মানুষ পাবেন, তাদের সরকার আটকাতে পারে? সিভিল সার্ভিসে বাঙালির চেয়ে অবাঙালির সংখ্যা বেশি। বাঙালিকে নিজের এলাকায় পরিষেবা নেওয়ার জন্য অনু ভাষায় কথা বলতে হয় তারই ট্যাক্সের তাকে বেতন পাওয়া লোকের সঙ্গে। একমাত্র বাংলাই একটি রাজ্য যেখানে বাংলা না জানলেও চাকরি পাওয়া যায়। ছট পুজোয় রবীন্দ্র সরোবর বা পাড়ার পুকুর নোংরা করার অলিখিত লাইসেন্স রয়েছে বিহারীদের কাছে। বাংলার মন্ত্রিসভায় এমন মন্ত্রীও হয়েছেন যাঁরা বাংলাটাই ঠিক করে বলতে পারেন না। এগুলো সরকার চাইলেই আটকাতে পারে। বাংলায়, নন বেঙ্গলি স্টাফের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। এগুলো আটকাতেই পারে সরকার। কিন্তু না আটকানোর ফকে বাঙালির পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আজ ভুঁইফোড় সংগঠনগুলির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

তাহলে যদি বাঙালির ক্ষোভ থাকে তাহলে তো বিকল্প সংগঠন তৈরি হবেই। কিন্তু এইসব সংগঠনগুলি এক একটি আস্ত ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন। বাংলার বহুদিনের একটা অতিথিয়েতার ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলার মানুষ ভদ্র সভ্য শিক্ষিত এই পরিচয় রয়েছে। কিন্তু যেভাবে ধীরে ধীরে এইসব সংগঠনগুলি বাংলাকে বাঙালি বনাম অবাঙালি একটা লড়াইতে লড়িয়ে দিচ্ছে এতে সেই ঐতিহ্যের দফারফা হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় আবাঙালীদের বাঙালিদের প্রতি ভয়ানক ঘৃণা তৈরি হচ্ছে। বাংলার বাইরে প্রবাসী বাঙালিদের হেনস্থার শিকার হয়ে চলেছে। কিন্তু এটাই শেষ নয়, শেষটা আরও ভয়ঙ্কর। যেটা সদ্য দেখা যাচ্ছে। কোনো বাঙালি যদি নিজেদের আত্মসমালোচনা করেও কিছু বলেন বা লেখেন, তাঁকেও ভিলেন প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। রে রে করে তেড়ে যাচ্ছেন মানুষ। এবং সামাজিকভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে। এছাড়াও শারীরিক নিগ্রহতো এরা আগেই করেছে। এরফলে শুধু অবাঙালি নয়, যদি আপনিও কোনো হক কথা বলেন, তাহলেও কিন্তু এদের হাত থেকে নিস্তার নেই। এরা বাংলাকে একটা এমন অবস্থায় নিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে যেখানে বাঙালি বনাম অবাঙালি এবং লিবারাল হয়ে যাবে। সমস্ত ইস্যু গৌণ হয়ে রাজনৈতিক লড়াই হবে বাঙালি এবং অবাঙালি। কাল হয়ত বাঙালির কোনো নোংরামির প্রতিবাদ করলেন এরা সেটা গোটা বাঙালির অপমান বলে আপনাকে শত্রু বানিয়ে দিল। এই বিষয়টা অনেকেই মনে করেন অরাজনৈতিক, কিন্তু এটি অত্যন্ত সুক্ষ রাজনৈতিক ইস্যু। অত্যন্ত সুক্ষ ভাবে একটা দল, অন্য সব দলকে গৌণ করে, নিজেদের বাঙালির মসিহা এবং সব ইস্যু গৌণ করে বাঙালি বিপদে পড়েছে এরম অবস্থা তৈরি করতে চাইছে।

হেট পলিটিক্স অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভয়ংকর। বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এই রাজনীতি খুব সুন্দর করতেন। ২০০৭-১১ বাংলায় যাই ঘটুক তার জন্য দায়ী সিপিএম, এরম একটা অবস্থা তৈরি করেছিলেন। এবং সেটা এমন অবস্থায় গিয়েছি ২০১১ তে লড়াইটা সিপিএম বনাম বাংলা হয়ে গিয়েছিল। কেন্দ্রের বর্তমান শাসক দল বিজেপিও খুব সুন্দর হেট পলিটিক্সের ধারক ও বাহক। দেশে সর্বদা হিন্দু খতরে মে হ্যায়, এবং ভোটের আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ব্যবহার করে এক শ্রেণীর মানুষকে অন্যশ্রেণীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দিয়ে ভোট বৈতরণী পর করতে সিদ্ধহস্ত। অন্যদিকে প্রতিবাদ করলেই রাজ্যে মাওবাদী আর কেন্দ্রে দেশদ্রোহী। এই হল হেট পলিটিক্সের সহজ সমীকরণ। আর ব্যাংকার তথাকথিত বাঙালির মসিহারাও এই অবস্থাই সৃষ্টি করতে চলেছে, ওদের প্রতিবাদ করলেই, ওদের ভুলকে ভুল বললেই আপনি বাঙালি বিরোধী। ফলে এই মুহূর্তে নিজেদের সংযত করতে না পারলে আগামী দিনে আপনি আমিও কিন্তু হয় বাংলার বাইরে হেনস্থার শিকার হব, নয়ত বাঙলাতেই বাঙালি বিরোধী তকমা নিয়ে হেনস্থা হতে বাধ্য হব।

Friday, June 26, 2020

ফাঁসির আসামী, বাঁচা মরার ঠিক মাঝামাঝি ঝুলে থাকা। কেমন কাটছে দিনগুলো, চলুন দেখে আসি।

June 26, 2020 0
ফাঁসির আসামী, বাঁচা মরার ঠিক মাঝামাঝি ঝুলে থাকা। কেমন কাটছে দিনগুলো, চলুন দেখে আসি।



আফজল গুরু হোক বা আজমল কাসব। ফাঁসির সাজা শোনার পর আরেকটা উপায় থাকে সেটা হল মার্সি পিটিশন। দুজনেই করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি সময় নিয়ে সেটা নাকচ করেন। সে না হয় হল। নাকচের পরও তাঁরা বাঁচেন। বেশ কিছুদিন বাঁচেন। তা প্রায় হপ্তা খানেক। জানেন যে ভুল করেছেন তার সাজা তাঁরা পাবেনই। কোনো ফাঁক নেই। কিন্তু ক্ষমা ভিক্ষা নাকচ হওয়া আর ফাঁসির দিন ধার্য হওয়ার মাঝে যে সময়টা থাকে সেইসময় তাঁরা প্রতিটা মুহূর্তে মারেন। প্রতিটা রাতে এই ভেবে ঘুমোতে যান এই বুঝি জেলার এসে বলল কাল তোমার ফাঁসি। মরতে হবে জেনেও এই আধমরা হয়ে থাকতে হয় বেশ কিছুদিন। আর এই যন্ত্রনাটা মৃত্যু যন্ত্রণার চেয়েও বেশি কঠিন।


 গোটা বাংলা তথা দেশ লড়ছে করোনার বিরুদ্ধে, আর একটা প্রজন্ম একটা ছাদের তলায় শেষ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র একটা স্তরের মানুষের একগুঁয়েমি, সবজান্তা ভাবের জন্য। হ্যাঁ করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটা জরুরি, কিন্তু সেই লড়াই লড়তে গিয়ে একটা রাজ্যের সতের আঠের বছর বয়সী বাচ্চা গুলোর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কেন? যখন গোটা বাংলায় মাত্র একটা করোনা রোগী ছিল তখন হঠাৎ করেই পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ। তারপর পাল্লা দিয়ে করোনা রোগী বাড়ছে দেশে, উল্টো দিকে সুস্থও হচ্ছে। কিন্তু যেমন কোনো কারণ ছাড়াই পেট্রল ডিজেলের দাম হুহু করে বাড়ছে সেরম ভাবেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীগুলো সমানুপাতিক ভাবে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। দুটো সরকারের আরও মিল হল কেউই এই নিয়ে একটা শব্দ পর্যন্ত উচ্চারণ করছেননা। সিবিএসই, আইসিএসই ঘোষণা করতে পারে পরীক্ষা স্থগিদের কিন্তু আমাদের বং ব্রিগেড যেমন প্রশ্নফাঁস আটকাতে পারেননা তেমনি এই ঘোষণাটুকুও করতে পারেন না।

প্রতিটা বাড়িতে যাদের এই অর্ধেক পরীক্ষা হওয়া পরীক্ষার্থী আছে তাঁরাই বিষয়টা বুঝবেন। একটা হাসিখুশি ছেলে বা মেয়ে কিভাবে গুম মেরে যাচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের ইগোর জন্য তাদের ভবিষ্যৎ কি অবস্থায় দাঁড়িয়ে। দুটো পরীক্ষার মধ্যে প্রায় তিন মাসের ব্যবধান। এর মাঝে পড়ার ইচ্ছেটুকুও থাকে? অথচ শিক্ষামন্ত্রী একবারের জন্যও বলছেন না এদের ভবিষ্যৎ কি। ছেলে মেয়ে গুলো কার্যত বিনা দোষে সাজা ভোগ করছে। একের পর এক সম্ভাব্য তারিখ লার হচ্ছে। আর তিনদিন আগে জানাচ্ছেন তাঁরা পরীক্ষা হবেনা। হ্যাঁ আমরাও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝি। আর সেটা বুঝেই বলছি, গোটা বাংলার এই উচ্চমাধ্যমিক ছেলে মেয়ে গুলোর মানসিক সুস্থতার জন্য অন্তত একবার ঝেড়ে কাশুন। হয় টেস্টের মার্কস বসিয়ে রেসাল্ট দিন, নয়ত পরীক্ষা গ্রহণের কোনো ব্যবস্থা হোক। রাজ্যে এত পুলিশ কমব্যাট ফোর্স, যারা সাংবাদিক পেটাতে, গাড়ির ড্রাইভার পেটাতে, সাধারণ মানুষকে হ্যারাস করতে সিদ্ধহস্ত তারা সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে পরীক্ষা করাতে পারবেন না? আচ্ছা না হয় অত্যুৎসাহি কয়েকটা গাড়োয়ানকে দেবেন লাঠির ঘা। আমার ভাইকে পরীক্ষাকেন্দ্রে দিতে গিয়ে আমিও না হয় খাবো কয়েক ঘা। তাও পরীক্ষা হোক।

এই সরকারের আমলে নাকি শিক্ষাব্যবস্থার প্রচুর উন্নতি হয়েছে। হ্যাঁ দেখার মতো প্রচুর স্কুল কলেজ বিল্ডিং হয়েছে। একেকটা বলকে দশ বারোটা স্কুল। তাহলে পরীক্ষাকেন্দ্র ভাগ করে একশো দেড়শ ছেলে মেয়ে নিয়ে কেন পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়? তাহলে কি এসএসসি ঝুলিয়ে রেখে কিরম শিক্ষকের অভাব সেটা প্রকট হয়ে যাবে? তা নিয়ে বিরোধীরা রাজনীতি করবে? আর সেই ভয়ে কিনা আপনারা পরীক্ষা নিতে ভয় পাচ্ছেন? বিরোধীরা রাজনীতি করবে। কারন বিরোধীদের কাজ ওটাই। আপনিও করেছেন, এখন বিরোধীরাও করবে। রে রে করে তেড়ে আসবে। সে তো মোদীজিও দুহাজার বারোতে পেট্রোলের দাম নিয়ে হইহল্লা করতেন। এখন আশি পর করিয়েও পুরো চুপ। কিন্তু বিরোধীদের ভয়ে পরীক্ষা নিচ্ছেননা সেটাও কম লজ্জার নয়।

লেখাটা শেষ করব যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেটা দিয়েই। এখন প্রতিটা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীই ফাঁসির আসামি। তারা জানে পরীক্ষা হবে। কিন্তু কবে হবে কেউ জানেনা। রোজ বই খুলে বসছে কিন্তু নজর টিভির দিকে। কখন কোন মন্ত্রী কি বলছে। আসতে আসতে বাচ্চাগুলো এক একটা মানসিক রোগিতে পরিনত হচ্ছে। না দিনে ভালো করে থাকতে পারছে,না রাতে ঘুম হচ্ছে। সামনে জাতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা। তার চিন্তা। বাকি বোর্ডের ছেলেমেয়েরা নির্বিঘ্নে প্রস্তুতি নিতে পারছে, কারন তাদের পরীক্ষা হবেনা তা ইতোমধ্যে ঘোষণা হয়ে গেছে। কিন্তুএদের ভবিষ্যৎ কি? তাই সরকার বাহাদুর দয়া করে ভবিষ্যৎ নিয়ে না খেলে একটু সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। বাচ্চা গুলো সুস্থ থাকুক।

Tuesday, June 23, 2020

নেপটিজম সে আবার কি, আমরা চিনি স্বজনপোষন

June 23, 2020 6
নেপটিজম সে আবার কি, আমরা চিনি স্বজনপোষন

অনেকদিন পর ব্লগে লিখতে বসলাম। নেপটিজম নিয়ে এখন বাজার গরম। তবে আমি এবার লিখব স্বজনপোষন নিয়ে। ভেতো বাঙালি, বেশি ইংরেজি না ঝেড়ে মাতৃভাষায় লেখাই শ্রেয়। তা কথা হল স্বজনপোষন। প্রত্যেকে এখন স্বজনপোষন নিয়ে বড় বড় প্রবন্ধ লিখছেন। এমন মানুষরাও লিখছেন যাদের ছোট থেকে ওই স্বজনপোষনের ফসল হিসেবেই জানি। আবার এখন পেশায় শিক্ষকতার সাথে যুক্ত ছিলাম তাই এটা একটু অন্য আঙ্গিকে দেখার চেষ্টা করব। মিলে গেলে কমেন্টবক্স খোলা, আর না মিললে গালি গুলো ভদ্র ভাষায় নাহয় দেবেন।

বাঙালি ছাপোষা পরিবারের সন্তান মানেই স্বজনপোষনের স্বীকার। আজ্ঞে হ্যাঁ প্রতিটা ছেলে। ছোট বেলায় ক্রিকেট খেলেনি আমাদের প্রজন্মের এমন ছেলে পাওয়া দুষ্কর। আর খেলার মাঠে ব্যাট আর বল যাদের বিশেষত ব্যাটটা যাদের তাদের আলাদা একটা কদর ছিল। আর আপনি যদি কন্ট্রিবিউশন না দিতে পারেন তবে সারাদিন ফিল্ডিং করেই কাটাতে হবে এটা কিন্তু শিওর। তারপর খেলা শেষে চললেন টিউশন পড়তে। টিউশনে আবার এসব হয় নাকি? হয় বাবু হয়। একটু দেখতে ভালো গায়ের রং ফর্সা মেয়ে আর শ্যামলা গায়ের রং যার সেই মেয়েকে জিজ্ঞেস করুন সব গড়গড় করে বলে দেবে। আর ছেলে মেয়ে যদি স্কুল টিচার বা প্রভাবশালী কারোর পুত্র কন্যা হয় তাহলে তো বলারই নেই। হয়ে গেল। আর গরিব বাবার গোবেচারা ছেলে ওই টিউশনের টাকা তুলতে যে বাবাকে সারাদিন খেটে মরতে হয় সেই ছেলে জানে যে টিউশন গিয়ে কি শিখল সে। স্কুলের ক্লাসরুমেও কিন্তু একই অবস্থা। যদি হন কোনো প্রভাবশালী বা অন্য কোনো টিচারের ছেলে, তাহলে আপনার আলাগ হ্যায় সোয়াগ। আর নইলে আপনি ঘন্টা। এরপর ধরুন মেধাবী আর গবেট। এডুকেশনের বই বলে যেগুলো গবেট সেগুলোকে একটু বেশি নজর দিন আর বাস্তব বলে যেগুলো গবেট সেগুলোকে দু চার থাপ্পড় আর একটু বেশি করে ইগনোর করুন। যে শিক্ষক বিএড বা ডিএলএডে ওই স্লো লার্নারদের নিয়ে চারপাতার উত্তর নামিয়ে ৮ সিজিপিএ নিয়ে এসেছে সে কিন্তু সমানুপাতিক হারে উপরোক্ত কর্মটিও করে। আমি নিজেও এর ব্যতিক্রম নই কারন সিস্টেম। কলেজে স্যারের বউ বা শালী, ব্যাস কে পায় আপনাকে। না এলেও ক্ষতি নেই, না লিখেও ইন্টারনালে গাদা গাদা নম্বর। আর পয়সা জলের মত দিয়ে আপনি আমি পাবো অশ্বডিম্ব। তবে এসবে আবার তেলের গুরুত্বও অপরিসীম। ইউনিভার্সিটি যান, গাইডের বাড়ির বাজার আর মেয়ের টিউশন পড়িয়ে দিন। চিন্তা নেই ডিজার্টেশন আর থিসিস এক চানসেই হয়ে গেল। নইলে ফক্কা।

এতো গেল ছাত্রাবস্থা। এরপর চলুন চাকরিতে। নানা সরকারি চাকরি নামক ডুমুরের ফুল নয়। বেসরকারি চাকরি। আপনি বসকে তেল লাগান আর বিনা কাজে চলতে থাক অ্যপ্রাইসাল। আর তেল না লাগলে কি হবে সে আপনি বিলক্ষণ জানেন। বসের ম্যাট্রিক ফেল ছেলে বউ সালা আপনাকে দেবে জ্ঞান। আর আপনি মাস্টার্স করে শুনবেন ওইসব চুল। চাকরিতে আমি বাঙালি তুমি বিহারী। হেহে অফিসের বাঙালিটাকেই তুলে ধরব। তুই সালা বিহারী যতই কাজ কর খাবি তো সেই কাঁচা খিস্তি। কাজে বাঙালি বিহারী, মারাঠি বিহারী এসব করে আপনি বলতে আসেন বলিউডের স্বজনপোষন নিয়ে? চাকরির আর যদি অভিজ্ঞতা বলি তাহলে একটা মহাভারত লেখা যাবে। আর আপনাদের জন্য কমেন্টবক্স তো খোলা। সরকারি হলে যদি হন তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী, তাহলে সে যতই শিক্ষিত হন আর যাই হন, আপনার ভবিতব্য ওই নাম ধরে তুমি ডাকেই। ছেলে মেয়ের বয়সী উচ্চপদের ( পড়ুন উচ্চবর্ণের) কর্মীদের ডাকবেন স্যার আপনি বলে, উল্টে তুমি আর নামধরে ডাক শুনে শান্তিতে থাকবেন। চা দোকানে বা ক্যান্টিনে শ্রেণী অনুসারে কদর আর বসার জায়গা। ভুল করেও উচ্চ শ্রেণীতে বসার উপায় নেই। আর অবসরের পরেও একই সিস্টেম। উচ্চপদের প্রাপ্য পেতে তিনদিন লাগলে নিম্ন পদের সেটা তিন বছরও হতে পারে।

শিক্ষা চাকরি, এরপর আসুন মৃত্যু। আপনি ছাপোষা বাঙালি। মরলেন আর ভাবলেন আহা কি শান্তি। যদি এটা ভাবেন তাহলে আপনি একটু পাক্কা বলদ (না না যেটা ভাবলেন সেটাই)। মরেও শান্তি নেই। ছেলে পুলের একটা ডেথ সার্টিফিকেট জোগাড় করতে জীবন শেষ। পোড়ানোর সময় হোক বা কবর দেওয়া পয়সাওয়ালা হলে আলাদা কদর আপনার বেলায় আলাদা। পুজোর মন্দিরে যদি হন কমিটির কেউ তাহলে পুজো দেবেন অঞ্জলি দেবেন সামনে থেকে, আর কেউ না হলে অঞ্জলীর ফুলটা হয়ত দেবীর পায়েও হয়ত পড়বেনা। প্রসাদ খেতে গেছেন আপনার খাতির আলাদা আর তেনাদের আলাদা। তাই দাদা স্বজনপোষনটা শুধু বলিউডে নয় আপনার বাড়িতেও। কারন বড় ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা ছেলেটা বাড়ির ফুলবাবু, খাটে পায়ের ওপর পা তুলে হেডফোনে গন শুনবে আর বাড়িতে থাকা ছেলেটা খাটাখাটনি করে কিছু বললেও তার হয়ে কিস্যু বলবেন না। আর সেই ছেলেও কিন্তু নেপোটিজম নিয়ে গরুর রচনা নামিয়েছে। লেখাটা শেষ করব একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা দিয়ে। তখন বিলাসপুরে পড়ি। খড়গপুর থেকে মুম্বাই মেলে যাচ্ছি। তৃতীয় এসি কামরা। পরনে একটা পুরোনো হাফ প্যান্ট আর একটা টিশার্ট। টিশার্টটাও দু এক জায়গায় ছেঁড়া। পিঠের ব্যাগটাও ছেঁড়া। কামরায় উঠে নিজের বার্থে বসতে যাবো তখন পাশের এক ভদ্র লোকের বাক্যবান, "এটা এসি কামরা"। অর্থাৎ দেখে যদি ভদ্র না মনে হয় এবং আপনার পরিধান দামি না হয় তাহলে আপনার পয়সা থাকলেও কিন্তু এসিতে চড়তে পারবেন না।

Sunday, April 5, 2020

অতীত হয়ে গেল বাংলার ব্যাঙ্কিং ইতিহাস, বাঙালির প্রতিষ্ঠান কেবলই স্মৃতি

April 05, 2020 0
অতীত হয়ে গেল বাংলার ব্যাঙ্কিং ইতিহাস, বাঙালির প্রতিষ্ঠান কেবলই স্মৃতি

গোটা দেশ ব্যস্ত করোনা ভাইরাস নিয়ে। আর এর মধ্যেই নিঃশব্দে ইতিহাস হয়ে গেল কলকাতার দুই ন্যাশনালাইজড ব্যাংক। ভারতের ব্যাংকিং ইতিহাসে কলকাতা একটা বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে। বলে হয় মুম্বাই নাকি ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী। আজকের বিচারে সেটা শুধু ঠিক নয়, একদমই সঠিক। তবে শুরুটা মোটেই এরম ছিলনা। ভারতের এই মুহূর্তে দ্বিতীয় বৃহত্তম ন্যাশনালাইজড ব্যাংক স্টেট ব্যাংকের জন্মও এই বাংলার মাটিতেই(ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অফ কমার্স, ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের সংযুক্তিতে এটিই ভারতের বৃহত্তম পাবলিক সেক্টর ব্যাংক)।হ্যাঁ, ভারতের প্রাচীনতম তথা এই উপমহাদেশের প্রথম ব্যাংক, ব্যাংক অফ ক্যালকাটার জন্ম হয় ১৮০৬ সালে এই বাংলার মাটিতেই। প্রায় তিনদশক পর ১৮৪০ সালে ব্যাংক অফ বম্বে স্থাপিত হয়। আরও তিনবছর পর দক্ষিণে জন্ম হয় ব্যাংক অফ মাদ্রাজের। ১৯২১ সালে এই তিন ব্যাংক মিলে গিয়ে হয় ইম্পেরিয়াল ইন্ডিয়া ব্যাংকের জন্ম হয়। শুধু বাণিজ্যিক পরিষেবা নয়, ১৯৩৫ সাল অবধি কার্যত রিজার্ভ ব্যাংকের দায়িত্বও পালন করেছে ভারতে। ১৯৩৫ এ রিজার্ভ ব্যাংক স্থাপিত হয় ভারতে। ১৯২১এই অবশ্য এই ব্যাংকের সদর দফতর মুম্বাইতে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে যাই হোক, ভারতের ব্যাংকিং পরিষেবার জন্ম এই বাংলাতেই।
কুমিল্লা ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেডের লোগো
১৯১৪ সালে কুমিল্লার ব্যবসায়ী নরেন্দ্রচন্দ্র দত্ত, ৪০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে কুমিল্লা ব্যাংকিং কর্পোরেশন তৈরি করেন। ব্যাংক তৈরির জন্য নিজের বাড়ী পর্যন্ত ১৫০০ টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। সেই কুমিল্লা ব্যাংকিং কর্পোরেশনই বাংলার বা বাঙালির প্রথম নিজস্ব ব্যাংক। তিনি নিজেই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে থেমে থাকেননি। তাঁর নিজের ছেলে যখন লেখাপড়া সেরে কুমিল্লা ফিরে এসে ব্যাংকে যোগদান করেন, তখন নরেন্দ্রচন্দ্রই তাঁকে একটি নিজস্ব ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। ১৯৩০ সালে বটকৃষ্ণ দত্ত তিরিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে নিউ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যদিকে ১৯১৮ সালে জেসি দাস প্রতিষ্ঠা করেন বেঙ্গল সেন্ট্রাল ব্যাংক। বাংলার এখনকার বেসরকারি ব্যাংকে বন্ধন ব্যাংকের মতন এই ব্যাংকও শুরু হয়েছিল মাইক্রো ফিন্যান্স বা লোন দেওয়া থেকেই। এছাড়াও ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত হুগলি ব্যাংক সেসময় বাংলার ব্যাংকিং পরিষেবার তালিকায় ওপর দিকেই ছিল। ১৯৪০ সালে স্বাধীনতার ঠিক আগে নরেন্দ্রচন্দ্র দত্তকে তৎকালীন রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর দ্বারকানাথ দেশমুখ প্রস্তাব দেন তাঁর ছেলের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংককে নিজের ব্যাংকের সাথে মিলিয়ে নিতে। সেই বছরই দুই ব্যাংকের সংযুক্তি হয়। ঠিক চার বছর পরই এই চার ব্যাংক মিলে তৈরি হয় বাঙালির নিজের ব্যাংক ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া। প্রাথমিক ভাবে কলকাতার তৎকালীন ক্লাইভ ঘাট স্ট্রিটে এই ব্যাংকের সদর দফতর তৈরি হয়। পরবর্তীকালে ইউনাইটেড ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এনসি দত্তর নামে ওই রাস্তার নামকরণ করা হয়। তবে ব্যাংকের শাখার সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে স্থান সংকুলান হওয়ায়, ১৯৭২ সালে ব্যাংকের সদর দফতর হেমন্ত বসু সরণিতে সরে যায়। ৩১ শে মার্চ ২০২০, অবধি সেই জায়গাতেই ছিল এই ঠিকানাতে সদর দফতর।
হেমন্ত বসু সরণিতে অবস্থিত ইউনাইটেড ব্যাংকের সদর দফতর

এতো গেল জন্মের কথা। তবে সময়ের সাথে ব্যাংক বড় হয়েছে।১৯৬৯ সালে ভারত সরকার ইউনাইটেড ব্যাংককে জাতীয়করন করে। সে সময় গোটা দেশে মাত্র ১৭৪টি শাখা ছিল ইউনাইটেড ব্যাংকের। ১৯৭৪ সালে হিন্দুস্তান মার্সেনটাইল ব্যাংক(১৯৪৪) অধিগ্রহণ করে ইউনাইটেড ব্যাংক।ঠিক দুই বছর পর ১৯৭৬ সালে গুজরাটের নারং ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া মিশে যায় ইউনাইটেড ব্যাংকে। স্বাধীনতার পর থেকেই পূর্ব ভারতে ইউনাইটেড ব্যাংক অন্যতম প্রধান সরকারি অধিগৃহিত ব্যাংক ছিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হত এই ব্যাংকের মাধ্যমেই। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় গ্রামীণ ব্যাংক, বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাংকের স্পন্সর ছিল এই ইউনাইটেড ব্যাংক। এছাড়াও আসামের আসাম গ্রামীন ব্যাংক, মণিপুরের মণিপুর রুরাল ব্যাংক এবং ত্রিপুরার ত্রিপুরা গ্রামীন ব্যাংকের স্পন্সর ছিল এই ইউনাইটেড ব্যাংক। তবে সময়ের সাথে সাথে ব্যাংকের অনাদায়ী সম্পত্তি বা নন পারফর্মিং অ্যাসেটের পরিমান বেড়েছে হুহু করে। ২০১৩-১৪ সালে ব্যাংকের নন পারফর্মিং অ্যাসেটের পরিমান দাঁড়িয়েছিল এক হাজার দুশ আটত্রিশ কোটি টাকা। তখনই ব্যাংকের অন্য ব্যাংকের সাথে মিশিয়ে দেওয়ার কথা উঠেছিল।ছয় বছর পর বাঙালির গর্বের ইউনাইটেড ব্যাংক মিশে গেল পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের সাথে। আর বাঙালির গর্বের এক প্রতিষ্ঠান ঢুকে গেল ইতিহাসের পাতায়।
এলাহাবাদ ব্যাংকের বিবাদী বাগে অবস্থিত সদর দফতর

এতক্ষন কথা হচ্ছিল বাংলার ব্যাংক, বাঙালির ব্যাংকের কথা। নাহ কলকাতায় কিন্তু এর বাইরেও একটি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকের প্রধান শাখা ছিল। আমি নিশ্চিত পাঠকদের বড় অংশ এতদূর পড়ে ভ্রু কুঁচকাচ্ছেন। নামটা বললে বিস্ময় আরো বাড়বে। এলাহাবাদ ব্যাঙ্কেরও হেডকোয়ার্টার এই কলকাতা শহরেই ছিল গত সপ্তাহ অবধি।বিবাদী বাগের হেডকোয়ার্টারে বসে গত ৩১এ মার্চ অবধি কাজও করেছেন হাজার খানেক কর্মী। তবে ইউনাইটেড ব্যাংকের মতো এর জন্ম কিন্তু বাংলায় নয়। ২৪ শে এপ্রিল ১৮৬৫ সালে বিখ্যাত ব্যবসায়ী এবং কাশি অর্নামেন্টের মালিক বাচ্চাজির সহায়তায় একদম ইউরোপীয় ব্যবসায়ী এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিক ভাবে এলাহাবাদের বাইরে ঝাঁসি, লখনৌ, বারেলি, নৈনিতাল, দিল্লি এবং কলকাতায় এর শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরিত হলেও স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত কলকাতা বন্দরের দৌলতে আর্থিক বৈভবে কলকাতা দিল্লির সাথে ভালোই টেক্কা দিত। আর সেই কারণেই ১৯২৩ সালে কলকাতায় এলাহাবাদ ব্যাংকের সদর দফতর স্থানান্তর করা হয়। সেসময় স্বদেশী আন্দোলনের কারনে ব্যাংকের ব্যবসাও বেশ ভালোই বেড়ে ওঠে। বাঙালি এবং মারওয়াড়ি শিল্পপতিরা বিদেশি ব্যাংকের পরিবর্তে ভারতীয় ব্যাংকে টাকা রাখা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৬৯ সালে অন্যান্য আরও তেরটি ব্যাংকের সাথে এলাহাবাদ ব্যাংকেরও রাষ্ট্রায়াত্ত করন হয়। ১৯৮৯ সালে কলকাতার ইউনাইটেড ইনড্রাস্ট্রিয়াল ব্যাংককে অধিগ্রহণ করে এলাহাবাদ ব্যাংক। তবে সময়ের সাথে সাথে ব্যাংকের আর্থিক কাঠামোতেও ঘুন ধরে। ২০১৯ সালে ভূষণ পাওয়ার এন্ড স্টিল লিমিটেডের প্রায় ১৭৭৪ কোটি টাকার জালিয়াতি ধরা পড়ে। ওই বছরই আরো একটি জালিয়াতি সামনে আসে। পাঞ্জাবের এসইএল ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড ৬৮৮ কোটি টাকার জালিয়াতি ধরা পড়ে। এর ফলে ব্যাংকের শেয়ার ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপরই ইন্ডিয়ান ব্যাংকের সাথে সংযুক্তির ঘোষণা করে সরকার। সংযুক্তির আগে পর্যন্ত এই ব্যাংকের মত ৩৫০৩ টি শাখা ছিল।

বলা হয় বাঙালির সাথে ব্যবসার সম্পর্ক মোটেই ভালো নয়। এলাহাবাদ ব্যাংক ইউনাইটেড ব্যাংকের থেকে আগেই বাংলায় পদার্পন করে। তবে ব্যাংকের কাঠামোর জন্ম হয় বাংলার বাইরে। কিন্তু ইউনাইটেড ব্যাংক সম্পূর্ণভাবে বাঙালির হাতে বাংলাতে তৈরি। প্রায় এক শতাব্দী গৌরবের সাথে চলার পর দুই ব্যাংকেরই সংযুক্তি ঘটল অন্য ব্যাংকের সাথে। এলাহাবাদ ব্যাংক ইন্ডিয়ান ব্যাংকের সংযুক্তির ফলে সদর দফতর হল চেন্নাইতে। অন্যদিকে ইউনাইটেড ব্যাংক পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের সাথে মিশে যাওয়াতে এবার যাবতীয় কর্মকান্ড মুম্বাইয়ের ভিকাজি কামা প্লেস থেকে পরিচালিত হবে। আর এভাবেই বাংলার দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সমাপ্তি ঘটল।

তথ্যসূত্র- দুই ব্যাংকের ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া এবং ইন্টারনেটে উপলব্ধ তথ্য।

Thursday, March 26, 2020

নার্স

March 26, 2020 0
নার্স
আমি আপনি বেশ ছুটি কাটাচ্ছি। হে হে পড়ে পাওয়া তিন হপ্তার ছুটি বলে কথা। আমরাও বেশ করেই কাটাতে পারতাম। কিন্তু কিছু পশ্চাদপক্ক পরিবারের লোকের সৌজন্যে কাটাতে পারলাম না।আর ভাই মেয়ে হয়েছে, বেশ ঠিক আছে। হালকা করে পড়াও, কলেজে পাঠাও পাস করলে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দাও। ব্যাস। গল্প শেষ। কিন্তু তা নয় মেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াবো। সে পর্যন্তও মেনে নেওয়া গেছিল পড়িয়েছ। এবার স্কুল পেরোল, কলেজে ভর্তি করো আর ছেলে দেখো। বিয়েও তো দিতে হবে নাকি! সেসব ছেড়ে মেয়েকে পাঠালে নার্সিং পড়তে। পড়াশুনো করে মেয়ে আমার বিদ্বান হলো। দিয়ে? দিয়ে আর কি এখন রাত জাগো। হাসপাতালে মেয়ে বসে ডিউটি করছে আর ঘরের লোকের চিন্তার শেষ নেই। কোথায় এই ছুটিতে সকালে চায়ে চুমুক দিয়ে বসে বসে পেপার পড়বে। দুপুরে ঘরে ভাত ঘুম দেবে, পাড়ার লোকজনদের নিজের বিজ্ঞ বিজ্ঞ জ্ঞান দেবে। আর সন্ধ্যা হলে নিউজ চ্যানেল খুলে বউকে বলবে "আরেক কাপ চা দিয়ে যাও তো"। তা নয় মেয়ে এখন রাত বিরেতে জেগে করুণাময়ী হয়ে করোনার চিকিৎসায় ব্যস্ত আর ঘরের লোকেরা সালা চিন্তায় ব্যস্ত। দুপুরের আলুপোস্ত ভাতটাও বিস্বাদ লাগে, কারন মেয়েটা চাল ডাল সেদ্ধ করে গিলে নিচ্ছে। লকডাউনে পৃথিবীর সব স্কুল মাস্টার, আইটি প্রফেশনাল, বিজ্ঞবি* প্রাইভেট মাস্টার আর সবজান্তা গামছাওয়ালারা বসে ছুটি কাটাচ্ছে, উল্টোদিকে একমাত্র মেয়েটা সালা রাতবিরেতে জেগে জেগে হাসপাতালে পাবলিকের গাল শুনছে। আর ওর এই কাজের জন্য পৃথিবীর সব নার্সের চরিত্র খারাপ, ওরা ডাক্তারদের সাথে শুয়ে যায় যখন তখন এসবও বলতে পারছনা। এমনকি হাসপাতালে কারোর কিছু হলে শালা নার্স গুলোরই সব দোষ এটাও বলতে পারছনা। তাও তো আবার হাসপাতালে ঘর দিয়েছে থাকার, নইলে তো ভাড়ার ঘর থেকেও দূর করত পাবলিক।  হুম আবারও বলছি কত করে বললাম ওসব না করে বেসিক পড়িয়ে বিয়ে দিয়ে দিতে। কথা না শুনলে ওমনি ই হয়। 😏

©Avi Nandan

কোয়ারণটাইন

March 26, 2020 0
কোয়ারণটাইন
সকালে উঠে বাড়ির চারপাসটায় অদ্ভুৎ নিস্তব্ধতা। ঠিক সায়েন্স ফিকশনে পড়া ঘটনাগুলোর মতো। কিন্তু তাতে বেড়াল কুকুর গুলোর খুব মজা। ওদের রাস্তা দেখে পেরোতে হচ্ছেনা। কাঠবেড়ালী গুলো তরতর করে নেমে এদিক ওদিক চলে যাচ্ছে। আর আমরা বাড়িতে বন্দি হয়ে রয়েছি। সত্যি বলছি মজা আসছে। হয়ত কয়েকদিন পর আমাদের বেড়ালটাও রাস্তায় বেরিয়ে এরম ঘুরে বেড়াবে। সবথেকে বড় কথা ওরা হয়ত কদিন পর জানালার ফাঁক দিয়ে আমাদের দেখবে বাইরে থেকে, আর আমরা মুখ বাড়িয়ে বসে থাকব কবে একটু বেরোতে পারব। একেবারেই চিড়িয়াখানার মতন মানুষখানা। বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে ওরা ঘুরে ঘুরে দেখবে। বাবা মারা বাচ্চাদের দেখাবে, "ওই দেখ, ওই বউটা আমার গায়ে গরম জল ছুঁড়ে মেরেছিল"। কোনো কুকুরী হয়ত তার সদ্য একা চলতে শেখা বাচ্চাকে বলবে, "ওই লাল জামা পড়া লোকটা মোটর সাইকেল নিয়ে তোর ছোট ভাইটাকে পিষে দিয়েছিল"। কিন্তু ওরা মানুষ নয়, তাই বাইরে থেকে আমাদের দেখে ঢিল ছুড়বেনা, ভেংচি কাটবেনা। আমরা বন্দি হয়ে থাকব, আর ওরা উপভোগ করবে পৃথিবীটা। যে পৃথিবীতে ওদেরও সমান অধিকার আছে। আমি বাড়িতে মাছের ঝোল খেয়ে ভাবব আরামে আছি। ওরাও চারিদিকে ঘুরে বেড়ায়ে আনন্দে থাকবে। পুরো ব্যাপারটাই একদম Vice Versa হয়ে যাবে। ঠিক যেন Poetic Justice। না এটা কল্প কাহিনী নয়, তাই এখানেই শেষ নয়। আবার একদিন থামবে মহামারী, আবার মানুষ ঘরের বাইরে বেরোবে। তারপর, যেটা গত পরশু অবধি করেছি আমরা সেটাই করে বেড়াবো

©️ Avi Nandan

Saturday, March 7, 2020

টুম্পা এবং......

March 07, 2020 0
টুম্পা এবং......
আমি জাতিতে টুম্পা। মানে টুম্পা। কলকাতার রাস্তাঘাটে স্টেশনে দোকানে মানুষ এই নামেই ডাকে। মানে একাকে নয় এরম আরও লাখখানেক লোককে। টুম্পা চেনার উপায় কি? জল ঢেলে মুড়ি খাবে, উদ্ভট ভাষায় কথা বলবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আর হ্যাঁ বাড়ি ফেরার সময় ছেলে মেয়েদের জন্য ফুটপাথের ধার থেকে কয়েকটা জামা কাপড়, ধর্মতলার সস্তার আপেল কমলালেবু কিনে বাড়ি ফিরবে। এরা টুম্পা। দেখলেই বোঝা যায়। জামা কাপড় পরা হাঁটাচলা সবেতেই এই গুণগুলো একদম মেন্ডেলের মটরদানা বা গিনিপিগ থাকা গানগুলোর মতই প্রকট। এরা না জানে কার্টসি না জানে কালচার। কলকাতা হাওড়ার বাবু সুবোদের পাশে তো দূরের কথা এদের দুরেও কোন তুলনা আসেনা। কলকাতার সংস্কৃতি মনস্ক মানুষজন কোথায় আর কোথায় মেদিনীপুরের এইসব পাবলিক। সত্যি। যাদবপুর থেকে মাধবপুর প্রতিবছর এই আনকালচার্ড কত টুম্পাযে সামাজিক র‍্যাগিংএর শিকার তার কোন হিসেব নেই। এরা অনেক কিছুই জানেনা, এরা নিউ ইয়ার পার্টি করতে জানেনা, দুর্গাপূজায় ঘুরতে জানেনা দোলে রবীন্দ্রভারতী বা শান্তিনিকেতন যেতে জানেনা। এই টুম্পাদের ছেলেমেয়েরা নিউ ইয়ারে পাশে থাকা যুবতীর হাত ধরে টানতে জানেনা, বসন্ত উৎসবের নামে শান্তিনিকেতন গিয়ে মাতলামি করতে জানেনা আর পিঠে লেখা বা ছাপার অযোগ্য ভাষায় লিখে অশ্লীলতা করতে জানেনা। তাই আমরা না হয় ওই অশ্লীল কালচার থেকে একটু দূরেই এরম আনকালচার্ড ই থাকি। জয় শালীন ভদ্র শিক্ষিত রুচিশীল বাঙালির জয়।

Proud to be a TUMPA......

©️ Avi Nandan

Saturday, June 1, 2019

ভারতের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলির সংবাদপত্রগুলি কী বলল

June 01, 2019 0
ভারতের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলির সংবাদপত্রগুলি কী বলল


বিশ্বের সর্ব বৃহৎ গনতন্ত্রের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল । সম্পূর্ণ ফলাফল আসতে মধ্যরাত হলেও বিকেলের পর থেকেই ফলাফলের একটা আভাস পাওয়া যেতে থাকে। এই দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত শুধুমাত্র একটি বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয় দক্ষিণ এশিয়ার সর্ব বৃহৎ অর্থনীতি ও বটে। তাই ভারতের এই সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের উপর এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের নজর থাকবে তা বলাই বাহুল্য। চলুন দেখে নেওয়া যাক দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্রগুলি ভারতের এই ফলাফল নিয়ে কি লিখছে।

প্রথমেই আসব আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী বাংলাদেশের সংবাদপত্রে-

প্রথম আলো- বাংলাদেশের অন্যতম বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রের ওয়েব ভার্সনে সরাসরি ভারতের ফলাফল নিয়ে কীছু না লিখলেও প্রথম খবরটিই রয়েছে মোদির জয়ে উচ্ছাস প্রকাশে সংযত বি এন পি। প্রসঙ্গত বিগত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে বিএনপি। পরবর্তী খবরে রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ফোনের খবর।এক পাশে ছোট্টো করে লেখা কীভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভারতে মোদির জয়কে দেখছে।
এছাড়াও বিশিষ্ট সাংবাদিক অর্নব সান্যাল মোদী বিরোধীদের ভুল কোথায় তা নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন।





বাংলা ট্রিবিউন- বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েব নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেভাবে কোনো বড় খবর করেনি। তিনটি স্টোরি যা হোম প্জে দেখা যাচ্ছে তাতে একটির বিষয় ভারতে আবার মোদি সরকার, পরেরটি মোদিকে অভিনন্দন বিএনপির এবং শেখ হাসিনার। এছাড়াও ইমরান খানের টুইটও প্রকাশ করা হয়েছে।


কালের কন্ঠ- বাংলাদেশের আরেকটি বাংলা সংবাদপত্র কালের কন্ঠ প্রায় পুরো প্রথম পাতা জুড়েই ফারতের ফলাফল নিয়ে লিখেছে। প্রথম খবরে নরেন্দ্র মোদীর ছবি সহ হেডলাইন 'মোদিতেই মাতোয়ারা ভারত', তারপর ক্রমান্বয়ে 'মোদী হঠাও বুমেরাং', এমনকী পশ্চিমবঙ্গের বাম ভোট রামে পড়ার তথা কথিত  চালু শব্দবন্ধও ছাপা হয়েছে। এছাড়াও এম হুমায়ুন কবির, ড: দেলোয়ার হোসেনের বিশেষজ্ঞ মতামতও প্রকাশিত হয়েছে। ১৭ তম লোকসভার একটি সম্ভাব্য গ্রাফিক্সও ছাপা হয়েছে।



দ্য ডেইলি স্টার- ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সারির ইংরাজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও বেশ গুরুত্বের সাথেই বিজেপির জয়কে ছেপেছে। প্রথম পাতায় বিজেপি সমর্থকদের উল্লাসের ছবি সহ 'Modi wins again' এবং 'Hadsina greets Modi on polls win' নামে দুটি কভার করেছে।


দ্য ডন- স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানের সর্বাধিক প্রচারিত ইংরাজী সংবাদপত্রে সেভাবে গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়নি ভারতের নির্বাচনের ফল নিয়ে বিশেষ উল্লেখ হয়নি। প্রথম পাতায় একটি গননা কক্ষের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে 'Modi wins second term by landslide, pledges inclusive govt' এবং 'Imran hopes to work with Indian PM for regional peace'। স্বাভাবিকভাবেই পাক সংবাদপত্র তাদের রক্ষনশীলতা বজায় রেখেছে এক্ষেত্রে।


দ্য হিমালয়ান টাইমস- নেপালের প্রথম সারির ইংরাজী দৈনিক দ্য হিমালয়ান টাইমস বিজেপি সদর দফতরের বাইরে মোদী ও অমিত শাহের ছবি সহ লিখেছে 'India's Modi set for second term as PM after huge win' হেডলাইনটি সম্পুর্ন বোল্ড অক্ষরে লেখা। এছাড়া অবশ্য প্রথম পাতায় আর কোনও খবর নেই এ বিষয়ে।

কীভাবে ঠিক হয় লোকসভায় কে কোথায় বসবেন?

June 01, 2019 0
কীভাবে ঠিক হয় লোকসভায় কে কোথায় বসবেন?
লোকসভা নির্বাচন এবং ফলাফল সমাপ্ত হয়ে গেছে এই বছরের মত। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা শপথ গ্রহনও করে নিয়েছেন। তবে যেই ভবনে তাঁরা আগামী পাঁচ বছর বসে দেশের অগ্রগতিকে পথ দেখাবেন, সেখানে কোথায় কে বসবেন? লোকসভায় প্রত্যেক সাংসদের আসন ঠিক করেন স্পিকার। তবে স্পিকার কীন্তু তাঁর ইচ্ছা মতো আসন বন্টন করতে পারেননা। এক্ষেত্রে বলে রাখা দরকার স্পিকারকেও কীন্তু সাধারন সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহন করতে হয় প্রথমে।রাস্ট্রপতি লোকসভার সবচেয়ে বরিষ্ঠ সদস্য অর্থাৎ সবচেয়ে বেশীবার জিতে আসা সদস্যকে প্রোটেম স্পিকার হিসেবে নিয়োগ করেন।সাংসদদের শপথনাক্য পড়ানোর পর, সাংসদদের দ্বারা নির্বাচিত স্পিকারকে তাঁর আসন ছেড়ে দেন। আর এর আগেই প্রত্যেক সাংসদের জন্য আসন নির্ধারিত হয়ে যায়।
সদস্যদের জন্য আসন নির্ধারনের জন্য একটি সাধারন নিয়ম রয়েছে। তবে তার আগে আমাদের লোকসভার আসনগুলি চিনে নিতে হবে। স্পিকারের ডান এবং বাঁ দিকে দুটি ব্লক রয়েছে।এগুলিতে ৯৭টি করে আসন রয়েছে। স্পিকারের আসনের সামনে চারটি ব্লক রয়েছে। এতে ৮৯টি করে আসন রয়েছে। এছাড়াও যেসব মন্ত্রী লোকসভার সদস্য নন(গত লোকসভায় স্মৃতি ইরানি, অরুন জেটলী প্রমুখ), তাঁরা বিতর্কের সময় যাতে বসতে পারেন তার জন্যও আলাদা কীছু আসন থাকে। স্পিকারের ডান দিকের আসনগুলি বরাদ্দ থাকে সরকার পক্ষের জন্য, বাঁদিকেরগুলি বরাদ্দ থাকে প্রধান বিরোধী পক্ষের জন্য। মাঝখামের আসন গুলি প্রয়োজন অনুসারে সরকার ও বিরোধাদের জন্য বারদ্দ করা হয়। তবে কখনওই সরকার এবং বিরোধীদের একই বেঞ্চে ভাগ করে বসানো হয়না।
স্কুলে প্রত্যেকেই প্রথম বেঞ্চে বসার জন্য অবশ্যই চেস্টা করেছেন। কারন প্রথম বেঞ্চটিকে বেশী গুরুত্বপুর্ন মনে করা হয়। সংসদেও একইভাবে গুরুত্বপুর্ন নেতাদের জন্য প্রথম বেঞ্চটি বরাদ্দ থাকে। তবে কোন দল কতগুলি আসন প্রথম সারিতে পাবে, তা নির্ধারনের একটি সূত্র রয়েছে। সূত্রটি হল - [(দলের বা জোটের কাছে থাকা মোট আসন×প্রথম সারির মোট আসন)/লোকসভার মোট আসন]। একটা উদাহরন দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। এই লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ মোট ৩৫৩টি আসন পেয়েছে। আর প্রথম সারির মোট আসন সংখ্যা ২০। তাহলে অঙ্কটা দাঁড়াচ্ছে (৩৫৩×২০)/৫৫০=১২.৮৩। দশমিকের পরের অঙ্ককে পুর্নাঙ্ক করলে সংখ্যাটি দাঁড়াচ্ছে ১৩। অর্থাৎ এই জোটের ১৩ জন সাংসদ প্রথম সারিতে বসার সূযোগ পাবেন এই সংসদে। এই হিসেব অনুসারে ৫২ সদস্যযুক্ত কংগ্রেসের মাত্র দুজন বসতে পাওয়ার কথা প্রথম সারিতে। দ্বিতীয় সারির জন্যও একই ভাবে আসন বন্টন করা হয়।এভাবেই শেষ সারি পর্যন্ত আসন বন্টন করা হয়।তবে এই নিয়ম শুধু মাত্র ৫ বা তার অধিক সংখ্যা যুক্ত সদস্যের পার্টির জন্যই প্রযোজ্য।পাঁচের কম সদস্যযুক্ত পার্টি হলে স্পিকার এবং দলের নেতা মিলে আলোচনার ভিত্তিতে আসন নির্ধারন করা হয়।

লোকসভা কক্ষ

এতো গেল সংখ্যার হিসেব। কোন নেতা কোথায় বসবেন সেটাও ঠিক করেন স্পিকার। শাসক ও বিরোধী জোটের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব পান যথাক্রমে ক্যাবিনেটের চার মন্ত্রী, (প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,অর্থমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী) এবং বিরোধী দলনেতা এবং উপ বিরোধী দলনেতা। বিরোধী বেঞ্চের প্রথম সারিতে বসেন ডেপুটি স্পিকার। এরপরও কোনও দল বা জোটের কাছে প্রথম সারির আসন বেঁচে গেলে সেখানে সেই দলের বরিষ্ঠ নেতারা বসবেন। লোকসভায় আসন বন্টনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় বরিষ্ঠতাকে। বয়স নয়, সবচেয়ে বেশীবার নির্বাচিত হওয়া সাংসদ দের। স্পিকার কখনও কখনও বরিষ্ঠ সদস্যদের সামনের সারির আসনও বরাদ্দ করতে পারেন। যেমন গত লোকসভায় সমাজবাদী পার্টির মুলায়ম সিং যাদব এবং জনতা দল (সেকুলার) এর এইচ.ডি. দেবেগৌড়াকে প্রথম সারির আসন বন্টন করা হয়েছিল যদিও তাঁদের কাছে প্রথম সারিতে বসার জন্য প্রয়োজনীয় আসন ছিলনা।
এসব ছাড়াও লোকসভায়,  স্পিকারের একদম সামনে কয়েকজন আধিকারিকের বসার আসন রয়েছে। যেখানে লোকসভার সচিব এবং অন্যান্য কর্মীরা বসেন। লোকসভার দৈনিক কার্য্য বিবরনী এখানেই লিপিবদ্ধ হয়।
এসব ছাড়ুন লোকসভার সর্বাধিক সদস্য সংখ্যা কত জানেন? ৫৫২ জন। এর মধ্যে ৫৩০ জন সাংসদ বিভিন্ন রাজ্য থেকে নির্বাচিত হতে পারেন, ২০ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে, এবং ২জন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সদস্যকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করতে পারেন। গত বার এই রাজ্যের জর্জ নেকার মনোনীত সাংসদ ছিলেন। যদিও এই ১৭ তম লোকসভা ৫৪৩ জন নির্বাচিত এবং ২ জন মনোনীত সাংসদ নিয়ে চলবে।
এই লেখাটি নিউজপোলেও প্রকাশ হয়েছে।

Saturday, December 29, 2018

গরুর রচনা

December 29, 2018 4
গরুর রচনা
আজ বেশ কীছুদিন পর মামাবাড়ী এসে একটা বেশ বড় কনফিউশানে পড়ে গেছি। মানে কেশটা হল এক বিশাল সাইজের হলস্টাইন গাই কে একটু পেয়ারার ডালা খাওয়াতে গেলুম তো গরু কেমন তেড়ে এল। কীছু বুঝতে পারলুম না। তবে কেমন যেন নিজেকে ব্যার্থ মনে হল। তারপর আরও একবার চেস্টা করতে গেলাম তো ডালাটা শুঁকেই যে ভঙ্গিটা করল সেটা দেখে বুঝলাম যে জাস্ট গার দড়িখানি আর একহাত লম্বা হলে আমার মধ্যপ্রদেশে একখান মারিয়ানা খাত তৈরি হতে পারত।
****----------****
গরু সবদিনই আমাদের জন্য একটি অর্থকরী ফসল। পুরোনো দিনের সবকটি সম্ভ্রান্ত পরিবারেই একাধিক গরু থাকত। আর বলদ যেমন জমিতে লাঙল টেনে,  গাড়ী টেনে যেমনভাবে বাইরের বিষয়গুলি সামলাত, তেমনই গাই গরু ঘরের ভেতরের কাজ যেমন দুধ দিয়ে মানুষকে সন্তান স্নেহে লালন করেছে। আর বোধহয় ঠিক সেই কারনেই পুরাকাল থেকেই বাড়ীতে গরুর একটা আলাদা স্থান ছিল, অন্যান্য পশুর তুলনায়।আর কোনও জাতি বা ধর্মের আবির্ভাবের আগে থেকেই বোধহয় গরুর এই উপকারীতা বুঝতে পেরে তাকে এক আলাদা আসনে বসানো হয়।
****------------****
পৃথিবীতে বোধহয় এমন কোনও জাতি নেই যারা যে বস্তু থেকে সূযোগ সুবিধা পাবে সেই প্রানীকেই আবার ভক্ষন করবে। আবার এও দেখা যায় যে অঞ্চলভেদে  যেহেতু বিভিন্ন  প্রানীর অবদান বিভিন্ন জাতির কাছে
ভিন্ন তাই তাদের স্থানও ভিন্ন। যেমন শীত প্রধান দেশের সান্টার বাহন কীন্তু বলগা হরিনই, আমাদের ঘোড়া নয়। তেমনই গঙ্গা সিন্ধুর বিশাল এই সমভূমি অঞ্চলে কী চাষের কাজ বা কী গৃহগত প্রয়োজন, সবকীছুতেই গরুর অবদান সবচেয়ে বেশী, তাই বোধহয় এই অঞ্চলের মানুষের কাছে গরু মাতৃষমা যে কীনা দুধ দিয়ে সন্তানস্নেহে মানুষকে বাড়তে সাহায্য করে।
****------------****
যে কোনও ধর্মেই সেই অঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি থাকা জন্তু জানোয়ারদের একটা বিশেষ স্থান রয়েছে। তাই হিন্দু ধর্মেও গরু তার ব্যাতিক্রম নয়।আর কোনও অর্থকরী বস্তু থেকে লাভ পাওয়ার পর যখন সে র কর্মক্ষম থাকেনা, তার যত্ন নেওয়া আমাদের অবশ্য কর্তব্য।আমরা যে তা মোটেই করতে ইচ্ছুক নই তা বহু বছর পুর্বেই বুঝেছিলেন বৈদিক ঋষিরা।তাই তাঁরাও বোধহয় ধর্মগ্রন্থে গরুকে একটা আলাদা জায়গা দিয়েছেন (তখন তো তাঁরা বোঝেননি যে তাঁদেরকেও রাজনীতিতে আনতে দ্বিধা করবেননা, তাঁদের তথাকথিত শিষ্যরা)। আর কালে কালে সেই নির্দেশই গরুকে একটি বিশেষ ধর্মীয় আচারে পরিনত করেছে। গরুর গোবর কীটনাশক তাই বাড়ীতে গোবর দিয়ে লাতা দেওয়া হয়, গরুর দুধ পুস্টি বর্ধক, বলদ লাঙল করে জমিতে ফসল ফলায়, তাই এরম একটি প্রানীকে অকারনে ভক্ষন করে যাতে একটি জাতি উচ্ছন্নে না যায় তার জন্য যা করা সঠিক তাই করেছেন তাঁরা।আর আজকের রাজনীতিকরা তাঁদের সুবিধার জন্য গরুকে মা বানিয়ে ফেলছেন আর তার জন্য মানুষ খুন করতেও পিছপা হচ্ছেন না।
****----------****
ও হ্যাঁ গল্পের গরুকে গাছে তুলে দিলাম। যেটা বলছিলাম গরুটাকে দেখে বড্ড কনফিউশানে পড়লাম। কারন পাশে দাঁড়ান দেশী গরু দুটো বেশ সুন্দর গাছের পাতাও খাচ্চে আবার গলায় হাতও বুলোতে দিচ্ছে। এখন আমাদের এক বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা তথা একটি রাজ্যের B.Sc. পাশ করা ও গনহারে নাম পরিবর্তনকারী মুখ্যমন্ত্রী গরুকে মা বলেন, আবার নিজেকে দেশপ্রেমিক ও বলেন।তো প্রশ্ন হল যে শুধু কী দেশী গরুই তাঁদের মা?  তাহলে যে সব গরু বাইরে জন্মালো তাদের দোষ কী?  আবার অন্যদিকে বিশেষ চিন্তা যে যদি বিদেশী গরুও তাদের মা হয় তাহলে তাঁরা কতটা দেশপ্রেমিক,  মানে যার শরীরে কীছুটা বিদেশী রক্ত তিনি কীভাবে দেশপ্রেমিক হবেন। আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যে মুলতানী গরু যা কীনা পাপিস্তানের তিনিও কী এদের মা?  নাকী তিনি অচ্ছুত?  সত্যি বলছি এসব নিয়ে কনফিউজড হয়ে যখন মামার সাথে আলোচনা করতে গেলাম তো মামাও বললেন- "তোর কী কোনও কাজ নেই গরু? "
মানে কনফিউজান কাটার বদলে আরও বেড়ে গেল, আমাকে কী অপমান করলেন(? ) নাকী ভগবান বললেন  

Friday, October 19, 2018

রাবন, মুদ্রার উল্টো পিঠ. . . . . . . . . .

October 19, 2018 1
রাবন, মুদ্রার উল্টো পিঠ. . . . . . . . . .
রাবনের নাম শুনলেই যে কথাটা প্রথম মনে আসে তা হল দশ মাথাযুক্ত এক ভয়ংকর রাক্ষস। তবে শুধুই কী তাই।দশানন অর্থাৎ অতি পরিচিত রাবনের সম্পর্কে বিশ্লেষণ করতে গেলে প্রথমে রাবন শব্দটির অর্থ জানতে গেলে বুৎপত্তিগত অর্থ জানা জরুরী।
বানান বিশ্লেষণ : র্+আ+ব্+অ+ণ্+অ।
উচ্চারণ : ra.bon (রা.বোন্)
রা =রা। (র্+আ মিলে একাক্ষর রা সৃষ্টি করে)
বণ =বোন্। (পূর্ব অক্ষরের আ ধ্বনির কারণে, পরের বর্ণ ব ওকারান্ত হবে। এর সাথে যুক্ত ন্+অ এর অ বিলুপ্ত হয়ে একাক্ষর বোন্ ধ্‌বনির সৃষ্টি হবে)।
দশানন অর্থাৎ রাবন ছিলেন লঙ্কার রাজা ইত্যাদি ইত্যাদি গৌর চন্দ্রিকা ছেড়ে যে বিষয়ে বলতে চাই সেই বিষয়ে প্রবেশ শ্রেয়। সরাসরি প্রবেশ করছি রাবনের ব্যাক্তিগত পরিসরে। আমাদের বহুল প্রচলিত বাংলা রামায়ণে রাবনকে রাক্ষস হিসেবে বর্ননা করা হয়েছে।এবার যদি আমরা রাবনের বংশ পরিচয় লক্ষ করি তাহলে দেখা যায় যে রাবণের দাদা পুলস্ত্য ছিলেন ব্ৰহ্মার মানসপুত্র এবং স্বনামধন্য ঋষি। কাজেই তিনি ছিলেন বংশে ও গুণে উভয়ত ব্রাহ্মণ। পুলস্ত্য ঋষির পুত্র অর্থাৎ রাবণের পিতা বিশ্ৰবাও ছিলেন একজন বিশিষ্ট ঋষি। কাজেই তিনিও ছিলেন বংশগত ও গুণগত ব্রাহ্মণ। তাই ব্রাহ্মণ ঋষি বিশ্ববার পুত্র রাবণ গুণগত না হলেও কুলগত ব্ৰাহ্মণ ছিলেন নিশ্চয়ই। ব্রাহ্মন শব্দটিকে অতি সহজে ব্যাখ্যা করলেও যা পাওয়া যায় তা হল ব্রহ্মজ্ঞানী। ব্রাহ্মণ-এর সাধারণ সংজ্ঞা হলো – ব্রহ্মাংশে জন্ম যার, অথবা বেদ জানে যে, কিংবা বেদ অধ্যয়ন করে যে, নতুবা ব্রহ্মের উপাসনা করে যে — সে-ই ব্রাহ্মণ। ঋষিগণ সর্বত্রই উক্ত গুণের অধিকারী। তাই ঋষি মাত্রেই ব্রাহ্মণ। সুতরাং ঋষিপুত্র হিসেবে রাবন কীন্তু ব্রাহ্মনত্বের দাবীদার।
রাবন তো না হয় ব্রাহ্মন হলেন, তাতে কীন্তু তাঁর জ্ঞানের প্রকাশ পায়না। তাই রাবনের প্রতিভা বিষয়ে একটু আলোচনা করা যেতে পারে।আগেই রাবনের বংশ পরিচয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে তাই সেটা পরিত্যাগ করে কয়েকটি ভিন্ন বিষয়ে দৃষিপাত করব পাঠকের। রামায়নের কয়েকটি অংশ দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
প্রথমত, রাবনের লঙ্কাকে বহু যায়গাতেই স্বর্নলঙ্কা বলে অভিহিত করেছেন বাল্মিকী।অর্থাৎ সমস্ত অর্থেই তৎকালীন সময়ে রাবনের লঙ্কায় সমৃদ্ধি বিরাজ করত। একজন রাক্ষসের দ্বীপ রাজ্যে এরূপ সমৃদ্ধি বিরাজ করা অবিশ্বাস্য নয় অসম্ভব।এছাড়াও এরম সমৃদ্ধশালী রাজ্য তাঁর সুশাসনেরই পরিচায়ক। আর একজন জ্ঞানী রাজার পক্ষেই সুশাসন দেওয়া সম্ভবপর।
দ্বিতীয়ত, রাবনের অশোক কাননে সীতাকে রেখেছিলেন রাবন। অশোক কানন হল সেই বাগান যেখানে গেলে সমস্ত জাগতিক দুঃখ কস্ট থেকে দুরে থাকা যায়।পৌরানিক ব্যাখ্যা বাদ দিলেও যা পড়ে থাকে সেটা বিশ্লেষণ করলেও যা পাওয়া যাচ্ছে তা হল এমন এক সুন্দর ফুল ফলের বাগান যা কীনা মানুষের (?) মনকে খুশী করে তোলে।তাই এমন এস উদ্যান তাঁর উচ্চরুচির পরিচায়ক।
তৃতীয়ত, এই যুদ্ধে এমন কীছু অস্ত্রসত্র ও প্রযুক্তির উল্লেখ পাওয়া যায় যা কীনা আজকের দিনেও বিস্ময়ের সৃষ্টি করে।আর এরূপ অস্ত্রের ব্যবহার কীন্তু শুধুমাত্র রাবনের পক্ষ থেকেই দেখা যায়। শক্তিশেল ও পুস্পক রথ শুধুমাত্র উচ্চমানের অস্ত্র নয়,  উচ্চ গবেষনার ফসল।যা কীনা রাবনের রাজ্যের উচ্চশিক্ষার মানকেই নির্দেশ করে।
চতুর্থত, রাবনকে হত্যাকালে রামচন্দ্র তীর নিক্ষেপ করে ভূপতিত করার পর লক্ষণকে রাবনের কাছ থেকে সুশাসন এবং অন্যান্য তত্ত্বজ্ঞান সংগ্রহ করতে বলেন। এবং সেই অবস্থাতেও রাবন লক্ষণকে এসব বিষয়ে জ্ঞান প্রদান করেন । এর দ্বারা শুধুমাত্র রাবনের মহত্বই নয় তাঁর জ্ঞান সম্পর্কে ধারনা করা যায়।
পরিশেষে, বলা যায় যে রাবন শুধুই এক দাম্ভিক রাজা নন এক অত্যন্ত জ্ঞানী পুরুষও ছিলেন। কাল থেকে কালান্তরে যখনই কোনো ব্যাক্তি কাউকে নিয়ে লিখেছেন তখন সেখানে সত্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠেছে তাঁর গুন কীর্তন বর্ননা। রামায়নও তার ব্যতিক্রম নয়।যে বাল্মিকী রামনাম জপ করে দস্যু থেকে ঋষিতে উত্তীর্ন হলেন তিনি তো অবশ্যই এই আখ্যানে রামকে সর্বোত্তম পুরুষ রূপেই অাঁকবেন, এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে?  তবে কীছু কীছু ক্ষেত্রে তিনি সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। যেমন যে রাবন এক উচ্চবংশজাত ব্রাহ্মন ছিলেন শৈশবে তিনিই যৌবনে এসে রাক্ষসে রূপান্তরিত হয়ে গেলেন।রাবন নিশ্চয়ই শৈশবে বা কৈশোরে রান্না করা খাদ্যই গ্রহন করতেন, তাহলে হঠাৎ করে যৈবনে এসে কাঁচা মাংস ভক্ষনের কী প্রয়োজন পড়ল তা সত্যিই দুর্বোধ্য। সেই সাথে রাবনের দশটি মাথার উদ্ভট ব্যাখ্যা।রাবনের দশটি মাথার মাধ্যমে সম্ভবত রাবনের দশটি মাথার সমান জ্ঞানকেই বোঝানো হত। আর বাল্মিকী এবং পরবর্তী কালে কৃত্তিবাসের হাতে পড়ে সেই দশ মাথা রাক্ষসের প্রতিকৃতিতে পরিনত হল। তবে একটি কথা বলেই শেষ করব মাইকেল মধুসূদন ইন্দ্রজিৎকে অন্য দৃষ্টিকোন থেকে দেখার চেষ্টা করেছিলেন আমিও সেরমই একটি ক্ষুদ্র চেষ্টা করলাম।
তথ্যঋন-
আরজ আলী মাতুব্বর- রাবনের প্রতিভা
anushilon.org

Wednesday, October 17, 2018

দূর্গোৎসব এবং. . . . . .

October 17, 2018 4
দূর্গোৎসব এবং. . . . . .
পরাজিতকে ইতিহাস মনে রাখেনি কোনও কালে। আর তাই তো ইতিহাস লেখাই হয়েছে বিজয়ীকে গৌরবান্বীত করতে। তবুও কখনও কখনও ইন্দ্রজিৎরা হেরে গিয়েও জিতে যান,  মাইকেল মধুসূদনের সৌজন্যে। হ্যাঁ এখন দূর্গাপুজো চলছে। দূর্গাপুজো মানেই দেবতাদের জয় আর অসুরদের পরাজয়। হ্যাঁ অসুরদের হত্যা করে মা দূর্গা পৃথিবীতে এনেছিলেন শান্তি। এই হল মোটামুটি হিন্দু ধর্মের বয়ানে মা দূর্গার আখ্যান। আচ্ছা আমাদের আশে পাশে যে সব মানুষগুলি ঘুরে বেড়ায় তাদের মধ্যে ঠিক কাকে দেখে আপনাদের অসুরের কথা মনে পড়ে বলুন না। আমি বলি?  সেই কালো এবং একটু চেহারাবান মানুষগুলিই অসুরের প্রতিরূপ। একটু যদি খুলেই বলি তবে? হ্যাঁ ঠিক শ্যাম মান্ডী-পুলিন মুরমু-ডাকতর  সোরেনদের দেখেই অসুর মনে হয় তো?
এতে সত্যিই কোনো দোষ নেই, কারন বছরের পর বছর আমরা মহিষাসুরের যে চেহারা আমরা দেখে আসছি তা ওদের সাথেই মিল খায়। হয়ত কোথাও কোনোকালে বিধিসম্মত সতর্কীকরণ ছিল মা দূর্গা এবং তার আশেপাশের সমস্ত চরিত্র কাল্পনিক এবং বাস্তবের সাথে তার কোনো মিল নেই।কীন্তু সে তো মোটেই নয়।
***********************
ভারতে বা পারতীয় ভূখন্ডে আর্যদের আগমনের বহুপূর্বে যারা বসবাস করত তারা অর্থাৎ অস্ট্রীক জাতি গোষ্ঠীর মানুষগুলোই হল আসল অসুর। হ্যাঁ এখনো অসুর পদবীধারী কীছু জনগোষ্ঠী রয়ে গেছে।তারা জঙ্গলের আশেপাশেই বসবাস করত এবং গোষ্ঠীবদ্ধ হয়েই থাকত। এখনো কোনো আদিবাসী গ্রামে গেলে তাদের মধ্যেকার গনতান্ত্রীক ব্যাবস্থা দেখার মত। তারা সেযুগেও এরম গনতান্ত্রীকভাবেই বসবাস করত। সেই আদিবাসীদের দূর্গরক্ষাকারী রাজা ঘেরাসুর ছিলেন।ঠিক আমরা যেরম মহান আত্মাকে মহাত্মা বলি সেরমই মহান ঘোরাসুর ও মহিষাসুর উপাধি পেয়েছিলেন (সত্যি বলতে কী মহিষাসুরের সাথে মহিষের কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমি কোনোভাবে বুঝিনি)। পরবর্তীতে আর্যরা সম্মুখ সমরে ঘোরাসুরের সাথে না পেরে দূর্গা দেবীকে নিয়ে ছলাকলার মাধ্যমে ঘোরাসুরকে বধ করেন এবং প্রাচীন যুদ্ধ নীতি মোতাবেক ঘোরাসুর নারীর সাথে যুদ্ধ করতে চাননি। এর পর গোটা আর্যাবর্তে আর্যশাসন শুরু হয়। সেই বিজয়ক্ষণে সাঁওতাল, মুন্ডা, কোল, কুর্মি, মাহালী, কোড়া প্রভৃতি খেরোয়াল গোষ্ঠীর আদিবাসীরা তাদের বশ্যতা স্বীকার না করে নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে নারীর ছদ্মবেশে দাঁশাই নাচ, কাঠি নাচের মাধ্যমে অন্তরের দুঃখ নিয়ে আনন্দের অভিনয় করতে করতে সিন্ধুপাড় ছেড়ে আসাম, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বঙ্গদেশ ও দক্ষিণ ভারতের বনে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। 
****************
আবারও বলছি ইতিহাস মানেই সেখানে ম্যানুপুলেশান থাকবেই। ঠিক যেমন পাকিস্তানের ইতিহাস বই পড়লে জানতে পারবেন ভারত কোনওদিনই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জেতেনি। ঠিক তেমনি হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে মা দূর্গা অসুরদের দমন করে এই পৃথিবীতে শান্তি এনেছিলেন।এবং অসুররা অত্যন্ত বদ প্রজাতির ছিল। আর অবাক করা ব্যপার কী আমরা কোনওদিন অসুরদের পেছনের কথা  না জেনেই তাদের ঘৃনা করেছি। আবার  আদিবাসীদের এইসব আখ্যানের কীন্তু কোনো লেখ্য রূপ নেই তাই এর ঐতিহাসিক সত্যতা বা গবেষণা কোনটিই হয়নি। তবে আজও সারা ভারতে ছড়িয়ে থাকা লাখো বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ 
মহান রাজা ও দেশ হারানোর ব্যথা নিয়ে সেই হুদুড় দুর্গা মহিষাসুরকে অন্যায় নিধনের দিন থেকে আদিবাসীরা তাদের পিতৃপুরুষের স্মরণে অতি করুণ সুরে ‘হায়রে হায়রে’ বলতে বলতে এই দাঁশাই নাচ ও কাঠি নাচ পালন করে চলেছে। তাই এই দূর্গোৎসব শুধুই আনন্দের নয়, দুঃখেরও একইসাথে. . . . . . . . . . . . . . .
পরিশেষে একটিই কথা বলি আজকের এই অস্থির সময়ে একটি বিশেষ অংশের স্বার্থান্বেষী মানুষ এইসব কীছু ইতিহাসের(? ) অস্পষ্ট অংশকে ব্যবহার করে নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা করে আজকের এই শংকর সমাজকে আবারও আলাদা করতে সচেষ্ট।তাই দূর্গোৎসব বা হুদুড় দূর্গা ২টি উৎসবই শুধুমাত্র উৎসব হিসেবেই পালন হোক এই আশা করি ।
বিশেষ দ্রস্টব্যঃ এই লেখাটির মাধ্যমে কাউকে বা কোনও জাতিগোষ্ঠীকে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়নি। শুধুমাত্র একটি জাতিগোষ্ঠীর অতি প্রাচীন উৎসবের উৎস খোঁজার চেস্টা করা হয়েছে।কথাবলি ডট কমে অজিত দাসের লেখাটিকে এখানে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।


Friday, September 21, 2018

পুলিশের গু খেয়ে বকের মৃত্যু

September 21, 2018 1
পুলিশের গু খেয়ে বকের মৃত্যু
পুলিশের গু খেয়ে বকের মৃত্যু
না আজ জোকস লিখতে বসিনি। জোকস লেখার মতো মানসিক অবস্থায় নেই। পুলিশের হাতে কী জন্য বন্দুক দেওয়া হয়? বেলুন ফাটাতে? অবশ্যই গুলি চালাতে। তবে পুলিশের হাত থেকে গুলি চলাটা অস্বাভাবিক নয়।আর গুলি চললে সামনে যেই আসবে সেই মরবে।এ নিয়ে বাপু এত কথা হওয়ার কী আছে ?
আর ঘটনাটাই বা এমন কী?  শিক্ষক চেয়ে ছাত্রদের আন্দোলন তাই তো? আরে বাবা সরকারের টাকার অভাব এখন শিক্ষক চাইলেই দেওয়া যায় নাকী? আর ক্লাব, খেলা, মেলা পুজো, ইমাম, পুরোহিত এদের আগে টাকা দেবে নাকী শিক্ষক দেবেন।
যত্তসব।
হ্যাঁ এটাই ঘটনা।পুলিশ চিরকালই ছিল দলদাস, সে কংগ্রেস আমলে শুরু,  আর বাম আমলের কথা নাই বা বললাম, কারন বলা শুরু করলে শেষ হবেনা।কীন্তু এই আমলে?  নাহ আমরা সকলেই পরিবর্তন চেয়েছিলাম শুধু এই সিস্টেমটা পরিবর্তনের জন্য।পুলিশ মেরুদন্ড বিকিয়ে দলদাস, সে আজ শাসকের ভৃত্যে রূপান্তরিত।হ্যাঁ পুলিশ পঞ্চায়েত জেতাবে , সেই পুলিশই আবার তোলা তুলে দেবে দলের তহবিলে।নির্লজ্জের মতো হাত পেতে ভিক্ষা করবে হাইওয়ের ধারে।তারপর এই এত লেবারী করে যখন নিজের ওপর ধিক্কার আসবে কী করবে?  ছাত্র পেটাবে, খুন করবে এই তো পারে ওরা।হ্যাঁ নিরস্ত্র ছাত্রের ওপর গুলি চালাতে পারে। হ্যাঁ এই না হলে পুলিশ।
চিরদিনই জলপাই পোষাকের ওপর ভয়ংকর এক শ্রদ্ধা রয়েছে।খড়গপুরের উপকন্ঠে থাকার কারনে বিভিন্ন রকম উষ্ণ পরিস্থিতিতে ই.এফ. আর.  জওয়ানদের সামনে থেকে পরিস্থিতি সামলানো দেখে শ্রদ্ধা আরও বেড়েছে।আচ্ছা একটা কথা বলুন না পুলিশ কারা হয়?  যারা ঠিক সেনা আধাসেনায় ফেল মারে তারাই হয়।অবশ্য হওয়ার পর বোলচালে তাদেরও ওপর যায়।এরা কীন্তু আদতে বিশ্ব ভীতু।দম থাকলে সীমান্তে গিয়ে গুলি চালাক।দুটো সন্ত্রাসবাদী মরবে।তা নয় আড়ালে দাঁড়িয়ে ছাত্র মারবে।
এবার প্রসঙ্গে ফিরি।আচ্ছা এই দুই মৃত্যু কেন?  শিক্ষক চেয়ে তাইতো?  এই কথাটা বলুনতো ঐ দাড়িভিট হাইস্কুল কী উর্দু মাধ্যম স্কুল? আমি জানিনা কারন wbbse.org তে affilated schools এর পেজটি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একটা এমন পরিবারে থাকি আমি যাদের প্রায় তিন পুরুষ শিক্ষকতায় যুক্ত তাই পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলির কী অবস্থা তা অজানা নয়।আর এই বাংলার শমক্ষক চেয়ে আন্দোলন সত্যিই প্রমান করে এলাকারমানুসষ বাংলা শিখতে চান।সুতরাং এই চাপিয়ে দেওয়া উর্দু শিক্ষক যা কীনা তোষনের এক অন্যতম অংশ তার বিরোধিতা করতে গিয়ে ছাত্রের মৃত্যু বুঝিয়ে দিল আজ বাংলার অবস্থাটি সত্যিই কী।
পরিশেষে এটুকুই বলতে চাই যে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষক হিসেবে আজ লজ্জিত,  সত্যিই লজ্জিত।সোমবার আবার ক্লাসে যাব, ছাত্র ছাত্রীদের গুডমর্নিং স্যার, কোলাহল আর শব্দের মাঝে হারিয়ে যাবে সব ।শুধু দুটি ছাত্রই আর ক্লাসে যাবেনা এরপর থেকে।হারিয়ে যাবে স্মৃতি থেকে ঠিক যেভাবে আমরা ভুলে গেছি সুদীপ্ত দা কে।
বরুন বাবু আপনার পেশায় আশার যোগ্য সত্যিই কী আমরা?  পেরেছি কী দুই ছাত্রের হত্যার প্রতিবাদ করতে?
উত্তর পেলে আমাকেও জানাবেন।আর না পেলে আয়নায় মুখ দেখবেন না প্লিজ।