Benami Diary: অফটপিক
Showing posts with label অফটপিক. Show all posts
Showing posts with label অফটপিক. Show all posts

Thursday, June 25, 2020

মেছো ভুতের নাম তো শুনেছেন, এ কিন্তু গেছো ভুত

June 25, 2020 0
মেছো ভুতের নাম তো শুনেছেন, এ কিন্তু গেছো ভুত
ভুতের গল্প আমরা অনেক শুনেছি। উঁচু উঁচু গাছে তেনারা বসে হওয়ায় পা দোলান। আর ইচ্ছে হলেই কারোর ঘাড় মটকে সাবাড় করে দেন। কিন্তু গাছের ভুত কোনো কালে কেউ শুনেছেন? হলফ করে বলতে পারি গাছে ভুত থাকার কথা শুনলেও, গাছের ভুত হওয়ার কথা হয়ত কেউ শোনেননি। কিন্তু সেটাও হয়। হয় মানে চাক্ষুস দেখেছি সে ভুত লোকের ওপর চড়তে। আমি বাপু গ্রামের মানুষ। আজকের ভাষায় জঙ্গল মহলের মানুষ। যে যাই মহল হোক গ্রামের আশেপাশে ছোট বেলায় প্রচুর জঙ্গল দেখেছি। আবার এক সময় রাত দিন কেটে সেই জঙ্গল সাবাড় করতেও দেখেছি মানুষকে। বড় বড় ইউক্যালিপটাস, সোনাঝুরি এসব গাছ রাতারাতি উধাও হতেও দেখেছি। প্রতিবাদ তো দূরের কথা কে কতটা খেতে পারে সেসময় তার এক প্রতিযোগিতা চলেছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে সেই গাছ কাটার মিল থাকলেও এই ভুতের উৎপত্তি কোথায় সে কথা বলতে পারিনা হলফ করে।

ভদ্র লোকের বয়স ৬২ বা ৬৩ হবে। পেশায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন কুলটিকরি এসসি হাইস্কুলের। কিন্তু বাড়ি বাঁকুড়া জেলার সারেঙ্গাতে। অবসরের পর নিজের কর্মস্থলেই থেকে গেলেন। আর আতান্তরে পড়লেন ভদ্রলোকের স্ত্রী। কারন? কারন আর কিস্যু না, লোকের মদ বিড়ির নেশা হয়, আর এই মানুষটাকে কিনা পেল গাছ লাগানোর নেশা। সকাল নেই বিকেল নেই যখন তখন চললেন গাছ লাগাতে। কখনও বা শ্মশানে, কখনও পুকুর পাড়ে। গাছ লাগানো চলতেই থাকল। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো ছাড়া এ আর অন্য কি? শুধু কি লাগানো, লাগিয়ে রোজ জল দেওয়া, সার দেওয়া পরিচর্যা করা সবই চলতে থাকল নিয়মিত। একজন তথাকথিত বহিরাগত কিনা লেগে আছেন একটা এলাকায় গাছ লাগাতে। লোকে দেখে অভ্যস্ত মাস্টার মানুষ অবসরের পর পায়ের উপর পা তুলে খেতে। আর এ কিনা পেনশনের টাকায় চারিদিকে গাছ লাগিয়ে বেড়াচ্ছে।

তবে গাছ লাগানো শুধু আটকে নেই এখানে ওখানেই। অবশেষে একটা পতিত মোরাম পাথর ভর্তি জায়গা ঘিরে নিয়ে শুরু হল বৃক্ষরোপন। শুরু করলেন একটা নতুন রকম কাজ। কুলটিকরি মডেল অফ অ্যাফরেস্টেশন। অর্থাৎ ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগানো। এবার আর শুধু এক নন। এলাকার বেশ কিছু যুবক এগিয়ে এল মাস্টারের সাহায্যে। শাল, মহুল, বট, অস্বত্থ, বকুল, কাজু বাদাম ইত্যাদি বহুবর্ষজীবী গাছ। আর শুরু হল যেকোনো কাজ উপলক্ষে একটা গাছ লাগানো। কারোর জন্মদিন, বাবা বা অন্য কেউ একটা গাছ লাগালেন। কেউ মারা গেছেন তাঁর স্মৃতিতে একটা গাছ লাগানো হল। কারোর বা বিয়ে সে উপলক্ষ্যেও গাছ লাগিয়েছেন স্থানীয় মানুষ। কেউ বা নেহাত শখের বসেই লাগিয়েছেন গাছ।আর তারপর সেই সব গাছের চারিদিকে বেড়া দেওয়া, গাছের যত্ন আত্তি করা সেসব দায়িত্ব মাস্টার এবং তাঁর টিমের। এলাকার বেশ কিছু আদিবাসী যুবক এগিয়ে এসেছেন স্যারের সাহায্যে। তাঁরা আশেপাশের গাছের লক্ষ্য রাখা থেকে শুরু করে গাছের পরিচর্যা সবটাই করেন সামান্য অর্থের বিনিময়ে। কখনও বা স্যার নিজের তাকে ছেলে মেয়েদের খেলার বল বা সামান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি জোগাড় করে দেন।

গৌরসাধনবাবু ও তাঁর টিম

একদম শেষ জায়গায় এসে ভদ্রলোকের নাম বলব। গৌরসাধন দাশচক্রবর্তী। মানুষটা এতটাই প্রচারবিমুখ যে নিজে পরিবেশদিবসের ছোট্ট অনুষ্ঠানে পর্যন্ত একবার মঞ্চে ওঠেন না বা মাইক হাতে নেন না। তাঁর নিজের কথায় মোটেই তিনি বিশেষ কোনো কাজ করছেন না। অবসর জীবনে অন্তত সাধারণ মানুষের জন্য একটু বিশুদ্ধ অক্সিজেনের ব্যবস্থা করছেন মাত্র। সকাল হোক বা বিকেল ওই খাটো ভদ্রলোককে একটা সাইকেল নিয়ে তাঁর তৈরি কৃত্রিম জঙ্গলের পাশেই পাবেন। আর যেখানে যেটুকু পারেন চেষ্টা করেন গাছ লাগানো মানুষকে অনুপ্রাণিত করার। গাছ লাগানোর নিয়ম হল প্রাথমিক ভাবে চারা, বেড়া দেওয়ার কাঁটা এবং সারের অল্প মূল্য নেওয়া হয়। তারপর পরিচর্যার দায়িত্ব উনার। কেউ সেই মুহূর্তে পয়সা দিতে না চাইলে বা পারলে পরে গাছ বড় হলে পয়সা দিলেও চলবে। এভাবেই প্রায় হাজার খানেক গাছ লাগিয়ে ফেলেছেন উনি। প্রতিদিন সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

পাঠকদের কেউ একটা বা একাধিক চারা লাগাতে ইচ্ছুক হলে যোগাযোগ করতে পারেন স্যারের সাথে।
গৌরসাধন দাশচক্রবর্তী
কুলটিকরি
সাঁকরাইল
ঝাড়গ্রাম
মোবাইল নম্বর- ৯৭৩৩৬৩৬৭৩৬

Saturday, June 1, 2019

ভারতের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলির সংবাদপত্রগুলি কী বলল

June 01, 2019 0
ভারতের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলির সংবাদপত্রগুলি কী বলল


বিশ্বের সর্ব বৃহৎ গনতন্ত্রের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল । সম্পূর্ণ ফলাফল আসতে মধ্যরাত হলেও বিকেলের পর থেকেই ফলাফলের একটা আভাস পাওয়া যেতে থাকে। এই দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত শুধুমাত্র একটি বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয় দক্ষিণ এশিয়ার সর্ব বৃহৎ অর্থনীতি ও বটে। তাই ভারতের এই সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের উপর এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের নজর থাকবে তা বলাই বাহুল্য। চলুন দেখে নেওয়া যাক দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্রগুলি ভারতের এই ফলাফল নিয়ে কি লিখছে।

প্রথমেই আসব আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী বাংলাদেশের সংবাদপত্রে-

প্রথম আলো- বাংলাদেশের অন্যতম বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রের ওয়েব ভার্সনে সরাসরি ভারতের ফলাফল নিয়ে কীছু না লিখলেও প্রথম খবরটিই রয়েছে মোদির জয়ে উচ্ছাস প্রকাশে সংযত বি এন পি। প্রসঙ্গত বিগত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে বিএনপি। পরবর্তী খবরে রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ফোনের খবর।এক পাশে ছোট্টো করে লেখা কীভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভারতে মোদির জয়কে দেখছে।
এছাড়াও বিশিষ্ট সাংবাদিক অর্নব সান্যাল মোদী বিরোধীদের ভুল কোথায় তা নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন।





বাংলা ট্রিবিউন- বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েব নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেভাবে কোনো বড় খবর করেনি। তিনটি স্টোরি যা হোম প্জে দেখা যাচ্ছে তাতে একটির বিষয় ভারতে আবার মোদি সরকার, পরেরটি মোদিকে অভিনন্দন বিএনপির এবং শেখ হাসিনার। এছাড়াও ইমরান খানের টুইটও প্রকাশ করা হয়েছে।


কালের কন্ঠ- বাংলাদেশের আরেকটি বাংলা সংবাদপত্র কালের কন্ঠ প্রায় পুরো প্রথম পাতা জুড়েই ফারতের ফলাফল নিয়ে লিখেছে। প্রথম খবরে নরেন্দ্র মোদীর ছবি সহ হেডলাইন 'মোদিতেই মাতোয়ারা ভারত', তারপর ক্রমান্বয়ে 'মোদী হঠাও বুমেরাং', এমনকী পশ্চিমবঙ্গের বাম ভোট রামে পড়ার তথা কথিত  চালু শব্দবন্ধও ছাপা হয়েছে। এছাড়াও এম হুমায়ুন কবির, ড: দেলোয়ার হোসেনের বিশেষজ্ঞ মতামতও প্রকাশিত হয়েছে। ১৭ তম লোকসভার একটি সম্ভাব্য গ্রাফিক্সও ছাপা হয়েছে।



দ্য ডেইলি স্টার- ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সারির ইংরাজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও বেশ গুরুত্বের সাথেই বিজেপির জয়কে ছেপেছে। প্রথম পাতায় বিজেপি সমর্থকদের উল্লাসের ছবি সহ 'Modi wins again' এবং 'Hadsina greets Modi on polls win' নামে দুটি কভার করেছে।


দ্য ডন- স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানের সর্বাধিক প্রচারিত ইংরাজী সংবাদপত্রে সেভাবে গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়নি ভারতের নির্বাচনের ফল নিয়ে বিশেষ উল্লেখ হয়নি। প্রথম পাতায় একটি গননা কক্ষের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে 'Modi wins second term by landslide, pledges inclusive govt' এবং 'Imran hopes to work with Indian PM for regional peace'। স্বাভাবিকভাবেই পাক সংবাদপত্র তাদের রক্ষনশীলতা বজায় রেখেছে এক্ষেত্রে।


দ্য হিমালয়ান টাইমস- নেপালের প্রথম সারির ইংরাজী দৈনিক দ্য হিমালয়ান টাইমস বিজেপি সদর দফতরের বাইরে মোদী ও অমিত শাহের ছবি সহ লিখেছে 'India's Modi set for second term as PM after huge win' হেডলাইনটি সম্পুর্ন বোল্ড অক্ষরে লেখা। এছাড়া অবশ্য প্রথম পাতায় আর কোনও খবর নেই এ বিষয়ে।

জামানত জব্দ বা বাজেয়াপ্ত মানে কী?

June 01, 2019 0
জামানত জব্দ বা বাজেয়াপ্ত মানে কী?
অভিনন্দন রানা- নির্বাচনের পর আমরা প্রায়ই শুনি অমুক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে , বা উনি জামানত রাখতে পারেননি। আর এই নির্বাচনের ফলের পর তো রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে গেছে বামেদের ৪১টি আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়টি। আসলে এই জমানত বাজেয়াপ্ত হওয়াটি কী?
আমরা সকলেই জানি যে ২৫ বছর বয়স হলেই ভোটে লড়াই করা যায়। কোনও দল মনোনয়ন না দিলেও দশজন প্রস্তাবক নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের দফতরে যান।আর মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে ভোটে লড়ুন। কীন্তু না, বিষয়টি এতটাও সহজ নয়। নির্বাচনে লড়ার জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা জমা রাখতে হয় রিটার্নিং অফিসারের কাছে। যা আদতে জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনের ঘরে। এই টাকার অঙ্কটি লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাধারন আসনে ২৫০০০ টাকা, তপশিলি জাতি সংরক্ষিত আসনে ১২৫০০টাকা এবং তপশিলি উপজাতি সংরক্ষিত আসনে ৫০০০ টাকা। বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিমানটা হল সাধারন আসনের জন্য ১০০০০ টাকা এবং সংরক্ষিত (তপশিলি জাতি এবং উপজাতি উভয়) আসনের ক্ষেত্রে ৫০০০ টাকা জমা রাখতে হয়। এবার জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার অর্থ হল, যে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন, সেই কেন্দ্রের মোট বৈধ ভোটের এক ষষ্ঠাংশ ভোট না পেলে জমা রাখা অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে। এটিকেই জামানত জব্দ হওয়া বলে। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত হওয়া লোকসভা নির্বাচনগুলিতে জামানতের পরিমান ছিল অসংরক্ষিত আসনের জন্য ৫০০ এবং সংরক্ষিত আসনের জন্য ২৫০ টাকা। ১৯৯৬ সালের আগেকার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য জামানত ছিল অসংরক্ষিত আসনের জন্য ২৫০ টাকা ও সংরক্ষিত আসনের জন্য ১২৫ টাকা।
জমানত রাখার রসিদ


এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। রমেশ কুমার শর্মা কে চেনেন? না চেনারই কথা। তিনি এই নির্বাচনে বিহারের পাটলিপুত্র থেকে নির্দল প্রার্থী হয়েছিলেন।১৫৫৮ টি ভোট পেয়ে,  তিনিও জামানত খুইয়েছেন। তো কী? তিনিই ছিলেন এই নির্বাচনের সবচেয়ে ধনী প্রার্থী। কত টাকার মালিক? মাত্র ১১০৭ কোটি টাকা।

আমার এই লেখাটি নিউজপোলেও প্রকাশ হয়েছে

কীভাবে ঠিক হয় লোকসভায় কে কোথায় বসবেন?

June 01, 2019 0
কীভাবে ঠিক হয় লোকসভায় কে কোথায় বসবেন?
লোকসভা নির্বাচন এবং ফলাফল সমাপ্ত হয়ে গেছে এই বছরের মত। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা শপথ গ্রহনও করে নিয়েছেন। তবে যেই ভবনে তাঁরা আগামী পাঁচ বছর বসে দেশের অগ্রগতিকে পথ দেখাবেন, সেখানে কোথায় কে বসবেন? লোকসভায় প্রত্যেক সাংসদের আসন ঠিক করেন স্পিকার। তবে স্পিকার কীন্তু তাঁর ইচ্ছা মতো আসন বন্টন করতে পারেননা। এক্ষেত্রে বলে রাখা দরকার স্পিকারকেও কীন্তু সাধারন সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহন করতে হয় প্রথমে।রাস্ট্রপতি লোকসভার সবচেয়ে বরিষ্ঠ সদস্য অর্থাৎ সবচেয়ে বেশীবার জিতে আসা সদস্যকে প্রোটেম স্পিকার হিসেবে নিয়োগ করেন।সাংসদদের শপথনাক্য পড়ানোর পর, সাংসদদের দ্বারা নির্বাচিত স্পিকারকে তাঁর আসন ছেড়ে দেন। আর এর আগেই প্রত্যেক সাংসদের জন্য আসন নির্ধারিত হয়ে যায়।
সদস্যদের জন্য আসন নির্ধারনের জন্য একটি সাধারন নিয়ম রয়েছে। তবে তার আগে আমাদের লোকসভার আসনগুলি চিনে নিতে হবে। স্পিকারের ডান এবং বাঁ দিকে দুটি ব্লক রয়েছে।এগুলিতে ৯৭টি করে আসন রয়েছে। স্পিকারের আসনের সামনে চারটি ব্লক রয়েছে। এতে ৮৯টি করে আসন রয়েছে। এছাড়াও যেসব মন্ত্রী লোকসভার সদস্য নন(গত লোকসভায় স্মৃতি ইরানি, অরুন জেটলী প্রমুখ), তাঁরা বিতর্কের সময় যাতে বসতে পারেন তার জন্যও আলাদা কীছু আসন থাকে। স্পিকারের ডান দিকের আসনগুলি বরাদ্দ থাকে সরকার পক্ষের জন্য, বাঁদিকেরগুলি বরাদ্দ থাকে প্রধান বিরোধী পক্ষের জন্য। মাঝখামের আসন গুলি প্রয়োজন অনুসারে সরকার ও বিরোধাদের জন্য বারদ্দ করা হয়। তবে কখনওই সরকার এবং বিরোধীদের একই বেঞ্চে ভাগ করে বসানো হয়না।
স্কুলে প্রত্যেকেই প্রথম বেঞ্চে বসার জন্য অবশ্যই চেস্টা করেছেন। কারন প্রথম বেঞ্চটিকে বেশী গুরুত্বপুর্ন মনে করা হয়। সংসদেও একইভাবে গুরুত্বপুর্ন নেতাদের জন্য প্রথম বেঞ্চটি বরাদ্দ থাকে। তবে কোন দল কতগুলি আসন প্রথম সারিতে পাবে, তা নির্ধারনের একটি সূত্র রয়েছে। সূত্রটি হল - [(দলের বা জোটের কাছে থাকা মোট আসন×প্রথম সারির মোট আসন)/লোকসভার মোট আসন]। একটা উদাহরন দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। এই লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ মোট ৩৫৩টি আসন পেয়েছে। আর প্রথম সারির মোট আসন সংখ্যা ২০। তাহলে অঙ্কটা দাঁড়াচ্ছে (৩৫৩×২০)/৫৫০=১২.৮৩। দশমিকের পরের অঙ্ককে পুর্নাঙ্ক করলে সংখ্যাটি দাঁড়াচ্ছে ১৩। অর্থাৎ এই জোটের ১৩ জন সাংসদ প্রথম সারিতে বসার সূযোগ পাবেন এই সংসদে। এই হিসেব অনুসারে ৫২ সদস্যযুক্ত কংগ্রেসের মাত্র দুজন বসতে পাওয়ার কথা প্রথম সারিতে। দ্বিতীয় সারির জন্যও একই ভাবে আসন বন্টন করা হয়।এভাবেই শেষ সারি পর্যন্ত আসন বন্টন করা হয়।তবে এই নিয়ম শুধু মাত্র ৫ বা তার অধিক সংখ্যা যুক্ত সদস্যের পার্টির জন্যই প্রযোজ্য।পাঁচের কম সদস্যযুক্ত পার্টি হলে স্পিকার এবং দলের নেতা মিলে আলোচনার ভিত্তিতে আসন নির্ধারন করা হয়।

লোকসভা কক্ষ

এতো গেল সংখ্যার হিসেব। কোন নেতা কোথায় বসবেন সেটাও ঠিক করেন স্পিকার। শাসক ও বিরোধী জোটের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব পান যথাক্রমে ক্যাবিনেটের চার মন্ত্রী, (প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,অর্থমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী) এবং বিরোধী দলনেতা এবং উপ বিরোধী দলনেতা। বিরোধী বেঞ্চের প্রথম সারিতে বসেন ডেপুটি স্পিকার। এরপরও কোনও দল বা জোটের কাছে প্রথম সারির আসন বেঁচে গেলে সেখানে সেই দলের বরিষ্ঠ নেতারা বসবেন। লোকসভায় আসন বন্টনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় বরিষ্ঠতাকে। বয়স নয়, সবচেয়ে বেশীবার নির্বাচিত হওয়া সাংসদ দের। স্পিকার কখনও কখনও বরিষ্ঠ সদস্যদের সামনের সারির আসনও বরাদ্দ করতে পারেন। যেমন গত লোকসভায় সমাজবাদী পার্টির মুলায়ম সিং যাদব এবং জনতা দল (সেকুলার) এর এইচ.ডি. দেবেগৌড়াকে প্রথম সারির আসন বন্টন করা হয়েছিল যদিও তাঁদের কাছে প্রথম সারিতে বসার জন্য প্রয়োজনীয় আসন ছিলনা।
এসব ছাড়াও লোকসভায়,  স্পিকারের একদম সামনে কয়েকজন আধিকারিকের বসার আসন রয়েছে। যেখানে লোকসভার সচিব এবং অন্যান্য কর্মীরা বসেন। লোকসভার দৈনিক কার্য্য বিবরনী এখানেই লিপিবদ্ধ হয়।
এসব ছাড়ুন লোকসভার সর্বাধিক সদস্য সংখ্যা কত জানেন? ৫৫২ জন। এর মধ্যে ৫৩০ জন সাংসদ বিভিন্ন রাজ্য থেকে নির্বাচিত হতে পারেন, ২০ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে, এবং ২জন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সদস্যকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করতে পারেন। গত বার এই রাজ্যের জর্জ নেকার মনোনীত সাংসদ ছিলেন। যদিও এই ১৭ তম লোকসভা ৫৪৩ জন নির্বাচিত এবং ২ জন মনোনীত সাংসদ নিয়ে চলবে।
এই লেখাটি নিউজপোলেও প্রকাশ হয়েছে।

Thursday, May 16, 2019

সংবিধানের ধারা ৩২৪ এবং নির্বাচন কমিশন. . . . . . . . .

May 16, 2019 0
সংবিধানের ধারা ৩২৪ এবং নির্বাচন কমিশন. . . . . . . . .

স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সম্ভবত প্রথমবার, নির্বাচন কমিশন কোনো রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকে পদ থেকে সরিয়ে দিলেন। প্রধানত নির্বাচনের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে এও জানানো হল যে সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে সম্ভবত প্রথমবার এই ধরনের কাজ করা হল। অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন লয়েছে যে এই ৩২৪ নম্বর ধারাটি কী এবং কেনই বা তা এত গুরুত্বপূর্ন।
*৩২৪ নম্বর ধারায় নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন তদারকী, নির্বাচন বিষয়ে নির্দেশাবলী প্রদান এবং তার নিয়ন্ত্রন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

১। প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ভারতের লোকসভা, প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভা, রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচক তালিকা প্রস্তুত এবং নির্বাচন পরিচালনার সমূহ দায়িত্ব একটি কমিশনের ওপর ন্যাস্ত হবে যা, ভারতের নির্বাচন কমিশন রূপে পরিচিত হবে।
২। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়ছে, নির্বাচন কমিশন একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার (সংখ্যা উল্লেখ নেই) দ্বারা গঠিত হবে। এঁদের নিয়োগ করবেন রাস্ট্রপতি, এবং নিয়োগ  সংক্রান্ত আইন আইনসভা কতৃক নির্ধারিত হবে।
৩। পরবর্তী অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হবেন।
৪। ভারতের প্রতিটি লোকসভা নির্বাচন, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন, রাজ্যের প্রথম বিধান পরিষদ (যে রাজ্যে রয়েছ) ও পরবর্তী দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের  প্রাক্কালে প্রয়োজন পড়লে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি আঞ্চলিক কমিশনার হিসেবে এক বা একাধিক ব্যাক্তিকে নিয়োগ করতে পারেন, যাঁর কাজ হবে নির্বাচন কমিশনকে ১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্নিত কাজে সাহায্য করা।
৫। সংসদ কর্তৃক প্রদত্ত কোন আইন সাপেক্ষে, নির্বাচন কমিশনার ও আঞ্চলিক কমিশনারের কার্যালয় এবং কার্যধারার শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি নির্ধারন করবেন ; এই শর্তে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হবে না এবং সুপ্রীম কোর্টের বিচারক এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চাকরীর মত একই ভিত্তিতে তার নিয়োগের পর তার অসুবিধা থেকে ভিন্ন হবে না: তবে শর্ত থাকে যে, অন্য নির্বাচন কমিশনার বা আঞ্চলিক কমিশনারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সুপারিশ ব্যতিরেকে অফিস থেকে অপসারণ করা হবে না।
৬। রাষ্ট্রপতি এবং প্রতিটি রাজ্যের রাজ্যপাল, কমিশনের অনুরোধসাপেক্ষে তাঁর কর্মচারীদেক(কেন্দ্রীয় সরকারী ও রাজ্য সরকারী কর্মীগন) নির্বাচন কমিশন বা আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারের কাছে হস্তান্তর করবেন যাতে অনুচ্ছেদ ১ এ বর্নিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করা যায়।
এক্ষেত্রে কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল রাজীব কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যের অপসারন শেষোক্ত অনুচ্ছেদটি মোতাবেক করা হয়েছে বলেই অনুমেয়। এবং এই ধারা ৩২৪ এ ভারতের নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে অবাধ শান্তিপুর্ন নির্বাচন পরিচালনার জন্য সমূহ ক্ষমতা ন্যাস্ত করা হয়েছে।
মুল নিবন্ধটি এই লিঙ্কে প্রকাশিত হয়েছে। এটি তারই অন্য একটি কপি।