Benami Diary

Friday, July 3, 2020

আমার ঠাকুমার ঝুলি

July 03, 2020 0
আমার ঠাকুমার ঝুলি



তারে আমি চোখে দেখেনি
তার অনেক গল্প শুনেছি
গল্প শুনে
গল্প শুনে তারে আমি অল্প অল্প ভালবেসেছি


 ম্যাক্সমিলান

ছোটবেলায় যখন ঠাকুমার ঝুলি গল্প টা পড়েছিলাম তখনো দিদা আর ঠাকুমার তফাৎ টা বুঝিনি, মামাবাড়ির দিদাই ছিল দিদা ঠাকুমা সব। বাবার যখন দুবছর বয়েস তখন ধনুষ্টংকার এ আমার ঠাকুমা মারা যায়, তাই বাবার কাছেও তার কোন গল্প বা কোন স্মৃতি আমার শোনা হয়নি। আর মাথার ওপর থেকে দিদার ছায়া টাও সরে গিয়েছিল খুব কম  বয়সেই, মুখ টা স্পষ্ট মনে থাকলেও গপ্প গুলো নেই, মায়ের সাথে কথা হলে মাঝে মাঝে দিদার গল্প গুলো শুনি, সে অনেক গল্প । তবে ঠাকুমার অভাব টা সত্যিকারের বুঝেছি বেশ কিছু বন্ধু বান্ধব ও তাদের ঠাকুমার কেমিস্ট্রি টা দেখার পর। ঠাকুমা সম্পর্কে যেটুকু ধ্যান ধারণা সেটা তাদের কাছেই পাওয়া আর বাকি কিছুটা কল্পনা। কারুর ঠাকুমা চঞ্চল ,কারুর রাগী ,কারুর দজ্জাল, কারুর সহজ সরল, কারুর টা একটু হাটকে মুড সুইং এর বিশুদ্ধ নিদর্শন । তবে সবার কাছেই ঠাকুমা মানে পাপ মুক্তির গঙ্গা জল, আবদারের পরম স্থল, পূর্ব জন্মের পুন্যফল। চাঁপা দেবী তথা শ্রীমতী চম্পকলি দেবী হলেন এমনই এক ঠাকুমা। তার এক নাতনি আর এক নাতি। নাতি আর নাতনি ই হলো তার ভালোবাসার কেন্দ্র বিন্দু । স্বামী প্রনবানন্দ বাবু কিছুকাল হলো গত হয়েছেন ৮২ বছর বয়েসে।জীবনের শেষ কালটায় প্রণব বাবুর মধুমেহ রোগের প্রাদূর্ভাব হয়। তবে মিষ্টির প্রতি তার লোলুপ দৃষ্টির বিন্দু মাত্র পরিবর্তন হয়নি। একমাত্র চাঁপা দেবীর কঠোরতা ও ডান্ডা মেরে ঠান্ডার হুমকি কিছুটা কাজে লেগেছিল । তবে তেনাদের ঝগড়ার যেমন কোন অন্তই ছিলনা। অবশ্য ওটার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল স্বপ্নের ভালোবাসা,একে অপরের যত্ন নেওয়া, একে অপরের ভরসার কাঁধ হওয়া।  খালিপেটে গাস্ট্রো আর সকালের ইনসুলিন দেওয়া ছিল চাঁপা দেবীর প্রাথমিক কাজ । তার পর নাতি নাতনি দের স্নেহের চাদর মুড়িয়ে দেওয়ার পালা। 

স্বভাবত নাতি হয় চঞ্চল আর নাতনি স্থির, কিনতু এক্ষেত্রে ছিল উল্টো, নাতি শান্ত আর ওটি দুরন্ত। ঠিক বিভূতিভূষণ এর অপু দুর্গার মতো, দূর্গা যেরূপ বড়ো বড়ো দুটি চোখে অগাধ স্বপ্ন দেখতো আর দেখাতো এই দূর্গাও তাই,ওই দূর্গা যেরূপ পেয়ারা, আম , তুলে পালাতো এই দুর্গাও তাই । তো একবার পাশের বাড়ির এক মহিলা এসেছিলেন এই দুর্গার নামে নালিশ করতে তারপর চাঁপা দেবীর কাছে যে পরিমাণ মুখ ঝামটা খেয়েছিলেন যে আগামী শত বর্ষেও তিনি তা হয়তো ভুলতে পারবেন না। তবে ঠাকুমা যে আসলে কি দূর্গা সেটা বুঝেছিল বেশ কিছুদিন পর, দুর্গার বয়েস তখন ৯ আর অপু ৩ বছরের । বর্ষা কাল, দড়ির একটা খাটে শুয়েছিল অপু । দূর্গা খেলছিল ওর সাথে। খেলা বলতে আর কি,  বাচ্চা মেয়েরা তো ছোট বেলাতেই হয়ে ওঠে মা,সেরকমই অপুকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিচ্ছিল সে । রাত্রি বেলা দুর্গাকে আগেই খাইয়ে দিয়েছে, তারপর অপুর কাছে রেখে, বাড়ির সবাই রাতের খাবার খেতে গিয়েছে। দূর্গা অনেকক্ষণ আদর করার পর উঠে  যাচ্ছিল এক কোনে রাখা  দিকে ট্রাঙ্ক এর দিকে , ট্রাঙ্ক এর উপর চড়ে বসতে দূর্গা খুব পছন্দ করে, ওখান থেকে বাল্বটার দিকে তাকিয়ে থাকে ও, বড়ো বড়ো দুচোখে অনেক স্বপ্ন ভরা। হটাৎ একটা জোর গোঙানির শব্দ: ''মা গো কে আছো এসো গো'' , দুর্গার মা  সবাই কে খাবার খেতে দিয়ে এসেছিল অপু দূর্গা কি করছে দেখতে । এসে দ্যাখে অপুর মাথার দিকের খাটের খুরে ফণা তুলে রয়েছে এক মস্ত কাল কেউটে  । চিৎকার শুনে তৎক্ষণাৎ সেখানে দৌড়ে আসেন তাদের ঠাকুমা । এসেই হাতে করে সাপ টাকে জানলার ওপারে ছুড়ে দেন অপুর ঠাকুমা। এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে দূর্গা তখন বাকরুদ্ধ, স্থবির। অপুর মায়ের কান্নায় আর চিৎকারে অপুর ঘুম টা ভেঙেছে তখন। চোখ রগড়ে রগড়ে উঠছে অপু। ওদিকে মা এর  কান্না থামেনি, দূর্গা  বাকরুদ্ধ, আর ঠাকুমা তথা চাঁপা দেবী অপুর পাশে শুয়ে পড়েছেন আর অপুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলছেন-

"আয় আয় চাঁদ মামা
টি দিয়ে যা
মাছ ধরলে মুড়ো দেবো
ধান ভানলে কুড়ো দেবো
কালো গাইয়ের দুধ দেবো
চাঁদের কপালে চাঁদ টি দিয়ে যা
"


হ্যাঁ অনেক সময়ই এরকম ভাবে স্নেহের আঁচল হয়ে ওঠে লোহার বর্ম । এই ঠাকুমা এর মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে মা শব্দ টি। আগে আমার কাছে ঠাকুমা বলতে  ঠাকুমার ঝুলির সেই বুড়ি কিংবা চাঁদে চরকা কাটা বুড়ি এই দুটোই ছিল, কিনতু এখন আমি বেশ কয়েকজন ঠাকুমা পেয়ে গেছি । আমার সহপাঠী দের কৃপায় আমিও পেয়ে যাই আমার নিজের ঠাকুমা তাদের ঠাকুমার মধ্যে । তাই ভালো থেকো ,  ঠাকুমারা যে যেখানেই থেকো ভালো থেকো ।



Thursday, July 2, 2020

দেখতে ভারতীয় কিন্তু আসলে চীনা, অনুপ্রবেশের শিকড় অনেক গভীরে

July 02, 2020 0
দেখতে ভারতীয় কিন্তু আসলে চীনা, অনুপ্রবেশের শিকড় অনেক গভীরে

বাজারে এখন সবচেয়ে হট টপিক ভারত চীন দ্বৈরথ। চীনের ভারতে অনুপ্রবেশ ভারতীয় সৈন্যদের আক্রমন এবং তারপর ভারতের প্রতি আক্রমনের ঘটনা সবার জানা। এরফলে ভারতের তরফে চীনা অ্যাপ ব্যান করা নিয়ে এখনো চর্চা তুঙ্গে। নেহাত চাইনিজ করোনার ভয়ে চায়ের দোকানে এখনো ঠিক ঠাক করে আড্ডা চলছেনা তাই এনিয়ে সেভাবে জানা যাচ্ছেনা। নয়ত প্রতিটা পাড়ার মোড়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দিতেন কি হবে এই ব্যানের ফলে। তবে সে ঠিক আছে, সরকার ব্যান করেছে চীনা অ্যাপ এবং আশা করি সকলে সেসব আনইনস্টল ও করে ফেলেছেন। কিন্তু জানেন কি আমাদের দেশের ডিজিট্যাল বাজারে আরও অনেক বড়ো অনুপ্রবেশ হয়ে বসে আছে।

হ্যাঁ একরকম অনুপ্রবেশই বটে। চীনা সংস্থার বা চীনের অ্যাপ ভারতে ব্যান হয়েছে। কিন্তু তারা কিভাবে ফিরে আসতে পারে তা আগের দিন এক আর্টিকেলে জানিয়েছিলাম। কিন্তু এটাকি জানেন ভারতীয় বলে যেসব অ্যাপ ব্যবহার করছেন সেগুলোর অধিকাংশতেই রয়েছে চীনা লগ্নি? এমনকি কদিন আগে প্রথম সারির সংবাদপত্রে গর্বের সাথে ভারতীয় বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া এক অ্যাপের সিংহভাগ শেয়ারই চীনা। চলুন দেখে নেই এমন কয়েকটি অতি পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত ৫টি অ্যাপ যা আমরা ভারতীয় বলে জানি সেগুলোতে বিশাল পরিমান চীনা লগ্নি রয়েছে।


১. ওলা ক্যাব- ভারতের মেট্রো শহরগুলিতে এই মুহূর্তে যদি দশজন মানুষ ক্যাব ব্যবহার করেন তাহলে দেখা যাবে তার মধ্যে এই মুহূর্তে সাতজনই অ্যাপক্যাব ব্যবহার করেন। এই অ্যাপ ক্যাবে যেমন ভালো পরিষেবা পাওয়া যায় তেমনি তুলনামূলক কম ভাড়াও গুনতে হয়। এমনকি এতে পুরোনো ট্যাক্সির মতো যাত্রী হয়রানি অনেক কম হয়। এই অ্যাপক্যাবের দুনিয়ায় ওলা একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। শুধু মেট্রো শহর নয়, মাঝারি ও ছোটো শহর গুলিতেও এখন ওলা পরিষেবা দিচ্ছে। তাই আম মধ্যবিত্ত ভারতীয়দের মধ্যে এই অ্যাপক্যাবের জনপ্রিয়তা প্রচুর। কারন যে খরচে ওলা পরিবহন করে তাতে গাড়ি ভাড়া অন্তত হয়না। কিন্তু এটা জানেন কি এই অ্যাপেও রয়েছে বিশাল চীনা বিনিয়োগ রয়েছে।ওলাতে মোট ৮০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের চীনা সংস্থা দিদি চাক্সিং টেকনোলজি সিংহভাগ বিনিয়োগ করেছে। এই সংস্থাও চিনে অ্যাপ ক্যাব এবং অন্যান্য গাড়ি ভাড়ার ব্যবসা করে। পাশাপাশি ভারতে ওলার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী উবারের চীনা ভার্সনের মূল বিনিয়োগকারী এই সংস্থাই।

২. গো আইবিবো এবং মেক মাই ট্রিপ- ভারতের মতো বিশাল দেশে পর্যটন চিরদিনই একটি বড় ব্যবসা। আজকের দিনে কোথাও ঘুরতে গিয়ে যাতে ঘর পাওয়ার সমস্যায় না পড়তে হয় সেই জন্য প্রায় প্রত্যেকেই অনলাইন বুকিং করেন।
বেশ কিছুদিন আগে গো আইবিবো এবং মেক মাইট্রিপের সংযুক্তির ফলে এই মুহূর্তে রেডবাস, মেক মাইট্রিপ, গো আইবিবো সবগুলি সংস্থা একই ছাদের তলায় এসে গেছে। এই নতুন কোম্পানিতে চীনা সংস্থা টেনসেন্ট এর প্রায় ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। 

৩. হাইক-
 ইন্টারনেট দুনিয়ায় প্রায় অনেকেই হোয়াটস‌অ্যাপের বিকল্প ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্লাটফর্ম হিসেবে হাইক ব্যবহার করেন। এই অ্যাপে প্রচুর ভারতীয় স্টিকার আছে যা প্রায় সমস্ত ভাষাতেই পাওয়া যায়। এইজন্য অনেকে এই অ্যাপটিকে ভারতীয় অ্যাপ ভেবে নেন। কিন্তু বিষয়টি এত সহজ নয়। হাইকের পুরো শেয়ারটাই টেনসেন্ট হোল্ডিং এবং ফক্সকন টেকনোলজির হাতে। যার মধ্যে প্রথমটি চীনের এবং দ্বিতীয়টি তাইওয়ানের। এর মূল্য প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার।

৪. স্নাপডিল- ভারতে এই মুহূর্তে অনলাইন শপিং এর চেয়ে ভালো বিক্রিবাটা কোথাও হয়না। এই অনলাইন শপিং এর চক্করে প্রচুর দোকান বসে গিয়েছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র। আর এই ব্যবসায় স্নাপডিল অন্যতম প্রথম সারির অ্যাপ। যদিও অ্যমাজন এবং ফ্লিপকার্টের সাথে সেবনে কম্পিটিশন করতে পারছে এই মুহূর্তে, তবুও অনলাইন শপিংয়ে উল্লেখযোগ্য বাজার ধরে রেখেছে এই সংস্থাটি। এই সংস্থার ইনভেস্টরদের মধ্যে অন্যতম জাপানের সংস্থা সফটব্যাংক গ্রূপ। যারা আবার চীনা বহুজাতিক সংস্থা আলিবাবা গ্রূপেরও ইনভেস্টর। ফলে এখানেও ঘুরপথে চীনা পুঁজি খাটছে।

৫.ফ্লিপকার্ট-
 নামটা শুনে খটকা লাগল? লাগাটাই স্বাভাবিক। এতদিন আমরা সবাই জেনে এসেছি ফ্লিপকার্ট ভারতের সংস্থা। তাহলে? নাহ আপনার আমার জানাটা ভুল নয়। শচীন বনসল দেবগন বিনি বনসলই এর প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু এর মধ্যেও খবর আছে। ২০১৭ সালে ফলিপকার্ট প্রায় ১১.৬ বিলিয়ন ডলার পুঁজি সংগ্রহ করে, যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য পুঁজি ছিল চীনা সংস্থা টেনসেন্টের ও  এই অ্যাপেও ঘুরপথে সফটব্যাঙ্কের মাধম্যে আরও চীনা পুঁজি রয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে ওয়ালমার্টের হাতে প্রায় ৭৭% শেয়ার রয়েছে ফ্লিপকার্টের, তবুও এর মধ্যে চীনা পুঁজির পরিমান মোটেই কম নয়।

তাহলে এই তালিকায় এমন কিছু অ্যাপ রয়েছে যেগুলো এতদিন সত্যিই ভারতীয় বলে জানতাম আমরা। অথচ বেশিরভাগ অ্যাপেই উল্লেখযোগ্য পরিমান চীনা পুঁজি রয়েছে। ফলে যদিও আপনি ভাবছেন চীনা জিনিস ব্যবহার করবেন না, এবং তার বদলে এইসব অ্যাপ ব্যবহার করবেন, সেক্ষেত্রেও কিন্তু লাভের গুড় সীমান্ত পেরিয়ে চিনেই যাবে। বলতে ভুলবেন না কোন নামটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য করেছে।

পুনশ্চ- আমরা অনেক সময় ওপর দিয়ে দেখে জিনিস নিয়ে ভুল করি। যেমন বয়কট চায়না টুপি আর টিশার্ট পরে ঘুরে বেড়াই,যেগুলো আবার চিনে তৈরি হয়। এটা বলার কারন হল কয়েকদিন আগে এই ভারত চীন ঝামেলার মধ্যে যখন ভারতীয় জনগনের মধ্যে চীনা পণ্য বয়কটের কথা উঠল তখন একটি বহুল প্রচারিত অ্যাপ কয়েকটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাল তাঁরা গর্বের সঙ্গে ভারতীয়। নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন কাদের কথা বলছি। হ্যাঁ পেটিএম।
সৌজন্যে- আনন্দবাজার পত্রিকা 

 আর পেটিএমে চীনা সংস্থা আলিবাবা গ্রূপের নয় নয় করে ৬২৫ মিলিয়ন ডলার পুঁজি রয়েছে। এবং এই  অ্যাপের কনসেপ্টও চীনা। তাই গর্বের সাথে ভারতীয় বলে ওই অ্যাপ ব্যবহার করার সময় মনে রাখবেন হয়ত ওই বিজ্ঞাপনের কনসেপ্টটাও মেড ইন চায়না।

Tuesday, June 30, 2020

সরকার না হয় চীনা অ্যাপ ব্যান করল, তাইবলে কি ব্যবহার করব না নাকি?

June 30, 2020 2
সরকার না হয় চীনা অ্যাপ ব্যান করল, তাইবলে কি ব্যবহার করব না নাকি?



দেশজুড়ে হইহই পড়ে গেছে। সরকার ৫৯ খান চীনা অ্যাপ ব্যান করে দিয়েছে। গোটা দেশজুড়ে একদম দেখুন কেমন বদলা নিলাম মার্কা ভাব সব্বার মধ্যে। বিশেষত যারা কদিন আগেই প্লে স্টোরে দৌড়ে দৌড়ে টিকটককে 1স্টার রেটিং তারা একটু বেশিই খুশি। কিন্তু কথাটা হল এর দ্বারা সত্যিই কি কতটা লাভ হল? রাতারাতি কি আমাদের ফোন থেকে উড়ে যাবে সমস্ত চীনা অ্যাপ? চলুন একটু তলিয়ে দেখি।

আমরা এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা মূলত যে কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার জন্য প্রাথমিক ভাবে গুগল প্লে স্টোর ব্যবহার করি। আপাতত তালিকায় থাকা প্রায় সমস্ত অ্যাপই প্লেস্টোরে আর পাওয়া যাচ্ছেনা। কিন্তু এটাই কি ফাইনাল? অর্থাৎ আর কোনো ভারতীয় এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারী এই সব অ্যাপ কোনোভাবেই কি ইনস্টল করতে পারবেন না? নাহ বিষয়টা আসলে এতটা সোজা নয়। কারন প্লে স্টোর ছাড়াও একাধিক অ্যাপ ডাউনলোড করার অনলাইন স্টোর রয়েছে। সেখানে কিন্তু এইসব অ্যাপ পাওয়া যেতেও পারে। তবে যদিও সেটার সম্ভাবনা কম কারন সেটা সরকারি সিদ্ধান্তের পরিপন্থী হবে।

এরপর আসছি দ্বিতীয় অপশনে। ভিপিএন, নামটা নিশ্চয়ই জানেন সকলে। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের পরিচয় অর্থাৎ আইপি এড্রেস লুকিয়ে নেট ব্যবহার করতে পারেন। ফলে আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার আপনার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে সাইটগুলো ব্লক করতে পারেনা। এরফলে আপনি ভারতে বসেই ফ্রান্স বা আমেরিকার আইপি এড্রেস দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন এবং সহজেই আপনি এদেশে নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারবেন। সবার মনে আছে কিছুদিন আগে সরকার দেশে পর্ন সাইটগুলো নিষিদ্ধ করেছিল। সত্যিই কি কেউ সেটা দেখতে পাচ্ছেন না? ঠিক একই ভাবে কিন্তু যে কেউ এই অ্যাপগুলি ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু সেখানেও একটা অসুবিধা রয়েছে। আপনার সমস্ত আক্যাউন্ট গুলো এই দেশের ঠিকানা এবং সার্ভারের সাথে সম্পৃক্ত। তাই আপনি কিন্তু এভাবেও অ্যাপগুলি ব্যবহার করতে পারবেন তার নিশ্চয়তা নেই। তাহলে তো কোনো চিন্তা না থাকারই কারন। কিন্তু এত সহজেই এগুলোর শেষ নয়।

তৃতীয় সম্ভাবনাটা অতীব সহজলভ্য। ইন্টারনেটে প্রচুর সাইটে সমস্ত অ্যাপের ক্র্যাক ভার্সন পাওয়া যায়। এইসব সাইটগুলো আপনাকে এপিকে ফাইলে গ্রাহকদের এপ্লিকেশন গুলি দেয়। তারপর ডাউনলোড করে এগুলি ইনস্টল করতে হয়। তাই এই এক সম্ভাবনা রয়ে গেল ব্যবহার করার। কিন্তু সেক্ষেত্রে যেসব অ্যাপ ইন্টারনেট সংযোগে চলে এবং সার্ভারে ডেটা লেনদেন হয় সেইসব অ্যাপ ব্যবহারে একটু অসুবিধা হতে পারে। তবে অন্যান্য অ্যাপ গুলি এভাবে ব্যবহার করা যেতেই পারে। তাই প্লেস্টোর থেকে সরে গেলেই যে এইসব অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেল তা মনে করার কোনো কারণ নেই।

শেষ একটা সম্ভাবনার কথা আমি বলব যেটা সবচেয়ে অসুবিধার কারন হতে পারে ভারতীয়দের জন্য। চীনা প্রচুর অ্যাপ চীন নয় একাধিক অন্যান্য দেশ থেকে থেকে আপলোড করা হয়, আর তাদের সদর দফতর অন্ততঃ কাগজে কলমে অন্য দেশে। যেমন ঠিক এমআই কোম্পানির ভারতীয় উইংএর  সিইও মনু কুমার জৈন বলেছিলেন অন্য অন্যান্য কোম্পানির চেয়ে বেশি ভারতীয় তাঁরা। তাই চীনাদের পক্ষে সবই সম্ভব। এমনকি এই দেশে খুব জনপ্রিয় ইউসি ব্রাউজার একটি চীনা কোম্পানি কিন্তু প্লে স্টোরে রয়েছে সিঙ্গাপুরে কোম্পানি হিসেবে। তাই এটা করা খুব একটা জটিল নয় বিশেষত চীনাদের পক্ষে। আর একটা অ্যাপ প্লেস্টোরে আপলোড করার জন্য মাত্র ২৫ ডলারের এককালীন এক ফি লাগে। সেটা অতি নগন্য মূল্য। আর ভারতের যা বাজার তারজন্য চীনারা ২৫ কোটি ডলারও খরচ করতে রাজি হবে। তাই ব্যান কোনোদিন খুব সহজে হওয়ার নয়।

তাহলে উপায়? উপায়টা খুবই সহজ। আপনি আমি যদি নিজে থেকে ফোনে ইনস্টল না করেন তাহলে তো চীনারা এসে আপনার ফোনে ইনস্টল করে যাবেনা? আমি নিজে চীনা ফোন ব্যবহার করি, কিন্তু ক্যাম স্ক্যানার ছাড়া কোনো চীনা অ্যাপ রাখিনি। এখন তার বদলে ব্যবহার করছি এডোব স্ক্যান। হ্যাঁ অসুবিধা হচ্ছে কিন্তু তবুও চীনা অ্যাপ রাখবনা। তাই ইনস্টল আর আনইনস্টল দুটো অপশনই আপনার হাতে। নিজে সচেতন ভাবে বয়কট করলেই একমাত্র সরকারের সিদ্ধান্তটা সফল হবে।